ঋতব্রত শিবিরই আসল তৃণমূল! আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে বিরাট ধাক্কা মমতার
তৃণমূল ভবন আর দলীয় তহবিল হাতছাড়া মমতার! আলিপুর আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে নজিরবিহীন জয় ঋতব্রতর
Truth of Bengal: আলিপুর আদালতের এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন রায়ে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ (Kalighat TMC)। ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধে আইনি সিলমোহর বসিয়ে আদালতের নির্দেশের কপি দেখালেন ‘আসল তৃণমূল’ গোষ্ঠীর হেভিওয়েট নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। সাফ জানিয়ে দেওয়া হল, মেট্রোপলিটনের মেগা ‘তৃণমূল ভবন’ (Trinamool Bhavan) থেকে শুরু করে দলের সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং দলীয় তহবিল (Party Fund), সবকিছুর ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এখন ঋতব্রত শিবিরের! অরূপ রায়ের (Arup Roy) নেতৃত্বাধীন অফিসিয়াল কমিটি ছাড়া অন্য কেউ এখন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ব্যবহার করলেই হতে পারে শ্রীঘর।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর দল যখন দুই টুকরো, তখন দলীয় সম্পত্তি, নাম ও ফান্ড কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা নিয়ে জোরদার মামলা চলছিল আলিপুর আদালতে। সেই মামলায় অবশেষে বড় জয় পেল ঋতব্রত ও অরূপ রায়ের গোষ্ঠী। আদালতের রায়ের অফিসিয়াল কপি সংবাদমাধ্যমের সামনে এনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সম্পত্তি এবং কোটি কোটি টাকার দলীয় তহবিল এখন আইনিভাবে তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন।
আদালতের এই ঐতিহাসিক নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে ঋতব্রত বলেন, “আমরা এতদিন ধরে যে দাবি করে আসছিলাম, মাননীয় আদালত আজ তাতেই সিলমোহর দিল। নিয়মনীতি মেনে পার্টির ফান্ড, নাম, লোগো, এসব আমরা ছাড়া অন্য কেউ কোনোভাবেই ব্যবহার করতে পারবে না। যারা দলের আসল সংবিধান না মেনে নিজেদের ক্ষমতার দম্ভ দেখাচ্ছিল, তাদের গালে এটা একটা মস্ত বড় আইনি চপেটাঘাত।”
মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবনে ‘নো এন্ট্রি’, জোর করে ঢুকলেই কড়া পুলিশি অ্যাকশন!
আদালতের এই রায়ের ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বাইপাসের মেট্রোপলিটনে অবস্থিত মূল দলীয় কার্যালয় ‘তৃণমূল ভবন’ নিয়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন অনুমোদিত কমিটির সদস্য ছাড়া অন্য কোনো গোষ্ঠীর লোক, তা তিনি যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, এই ভবনে পা রাখতে পারবেন না। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা গায়ের জোরে বা ক্ষমতার লোভে দলীয় কার্যালয়গুলো দখল করতে যাবেন, আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনত পদক্ষেপ করব। বাংলায় কোনো মগের মুলুক চলবে না।”
অরূপ রায়ের কমিটির অনুমতি ছাড়া অচল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’
এই রায়ের পর রাজনৈতিকভাবে কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়ার মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা। কারণ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া অন্য কেউ যদি ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ (AITC) নাম ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংবাদিক বৈঠক বা বিজ্ঞপ্তি জারি করতে চান, তবে তা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে। ২১ জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের ঠিক মুখেই আদালতের এই মরণকামড়ে কালীঘাট তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে ঘোরে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন কি না, এখন সেটাই দেখার।






