Ruinous Empathy: সহকর্মীর মন খারাপ হওয়ার ভয়ে সত্য গোপন? বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, একসময় তিনি “অ্যালেক্স” নামের এক সহকর্মীকে নিয়োগ করেছিলেন, যিনি রসবোধের জন্য সবার প্রিয় ছিলেন, কিন্তু কাজের মধ্যে প্রায়ই ভুল করতেন।
Truth of Bengal: সহকর্মীর মন খারাপ হওয়ার ভয়ে কঠিন সত্য না বলা দীর্ঘমেয়াদে আরও ক্ষতি ডেকে আনতে পারে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন নেতৃত্ব বিশেষজ্ঞ ও লেখিকা কিম স্কট। সম্প্রতি এক টেড টকে বক্তৃতা দিতে গিয়ে Radical Candor: Be a Kick-Ass Boss Without Losing Your Humanity বইয়ের লেখিকা স্কট নিজের কর্মজীবনের এক বড় ভুলের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যাকে তিনি আখ্যা দেন “ruinous empathy” বা ‘বিনাশী সহানুভূতি’। এই পরিভাষা দিয়ে স্কট বোঝাতে চেয়েছেন, যখন আমরা কারও অনুভূতিকে রক্ষা করার জন্য এতটাই সতর্ক থাকি যে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়াই (ফিডব্যাক) দিই না, তখন তা শেষ পর্যন্ত তার সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় (Ruinous Empathy)।
আরও পড়ুনঃ আরও ১২ লক্ষ সবুজসাথী’র সাইকেল, কবে দেওয়া হবে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, একসময় তিনি “অ্যালেক্স” নামের এক সহকর্মীকে নিয়োগ করেছিলেন, যিনি রসবোধের জন্য সবার প্রিয় ছিলেন, কিন্তু কাজের মধ্যে প্রায়ই ভুল করতেন। সমালোচনা না করে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে স্কট কখনও সরাসরি সমস্যার কথা বলেননি। “দশ মাস পর আমাকে তাকে ছাঁটাই করতে হয়,” বলেন স্কট। “সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কেন আগে বলেননি? আমি ভেবেছিলাম আপনারা সবাই আমাকে নিয়ে ভাবেন।’” সেই মুহূর্তে তিনি বুঝতে পারেন, সরাসরি সত্য বলা যতটা জরুরি, ততটাই ক্ষতিকর হতে পারে তা গোপন রাখা (Ruinous Empathy)।
স্কটের “র্যাডিকাল ক্যান্ডর” দর্শন দুটি মূল উপাদানের উপর দাঁড়ানো — ব্যক্তিগত যত্ন দেখানো এবং সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো। চ্যালেঞ্জ বেশি, যত্ন কম হলে হয় “obnoxious aggression” সহানুভূতি ছাড়া সঠিক কিন্তু কঠিন সমালোচনা। যত্নও নেই, সত্যও নেই, হয় “manipulative insincerity”, যা প্রায়ই গসিপ বা প্যাসিভ-অ্যাগ্রেসিভ আচরণের রূপ নেয়। তবে সবচেয়ে বড় ভুল, তার মতে, “ruinous empathy” অতিরিক্ত দয়ালু হয়ে সমস্যাকে উপেক্ষা করা, যা সময়ের সঙ্গে আরও খারাপ হয় (Ruinous Empathy)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1ADtx3ZZeU/
টেড বক্তৃতায় তিনি বলেন, “When jerks win, culture loses. If you see your team slipping into ruinous empathy, you can move toward radical candor. It won’t solve all problems, but it allows people to fix mistakes.” অর্থাৎ “যখন অসভ্যরা জেতে, তখন সংস্কৃতি হারে। যদি দেখেন আপনার দল বিনাশী সহানুভূতির দিকে এগোচ্ছে, তবে তাদের র্যাডিকাল ক্যান্ডরের পথে আনুন। এটি সব সমস্যার সমাধান না করলেও মানুষকে নিজের ভুল ঠিক করার সুযোগ দেবে।” স্কটের মতে, এই নীতি শুধু অফিসেই নয়, সমাজ ও জাতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তিনি বলেন, পুরো একটি সম্প্রদায়ও কখনও কখনও বিপরীত মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ এড়িয়ে গিয়ে একই ভুল করে (Ruinous Empathy)।
একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একবার তাকে এমন একটি সংস্থায় বক্তৃতার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যাদের নীতির সঙ্গে তিনি একেবারেই একমত ছিলেন না। প্রথমে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করার কথা ভাবলেও পরে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তার মতে “unchallenged beliefs become prejudices” প্রশ্নহীন বিশ্বাসই কুসংস্কারে রূপ নেয়।আলোচনার সময় তৎক্ষণাৎ কাউকে বোঝানোর চেষ্টা না করে মনোযোগ দিয়ে শুনে তিনি এমন কিছু ক্ষেত্র খুঁজে পান যেখানে মত মিলেছে। স্কট হাস্যরসের সঙ্গে যোগ করেন, “একজন আমাকে বললেন, ‘আপনি তো খারাপ মানুষ বলে মনে হয় না।’ আমি ঠিক একই কথা তার ক্ষেত্রেও ভাবছিলাম (Ruinous Empathy)।”






