রাজ্যের খবর

ভাঙড় বিস্ফোরণে এনআইএ-র ৬৫ পাতার মেগা চার্জশিট! শওকত মোল্লাকে নিয়ে আদালতে বিস্ফোরক দাবি কেন্দ্রীয় এজেন্সির

ভোটের আগে এলাকা কাঁপাতে বোমা বাঁধার ছক, শওকতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য

Truth of Bengal: দক্ষিণ ২৪ পরগনার একদা তপ্ত রাজনৈতিক ক্ষেত্র ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। ঘটনার ঠিক ৮৭ দিনের মাথায় নগর দায়রা আদালতে ৬৫ পাতার এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক চার্জশিট জমা দিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই চার্জশিটে মূলত আহিদুল ইসলাম মোল্লা এবং রহমত আলি মোল্লার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা ও ‘এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্ট’ (Explosive Act) বা বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে এই চার্জশিটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলেন ভাঙড়ের তৎকালীন ‘অবজারভার’ তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। শওকত-সহ এই মামলায় ইতিমধ্যেই মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং চার্জশিটের পাতায় পাতায় শওকতের নাম ও তাঁর গভীর চক্রান্তের উল্লেখ রয়েছে বলে এনআইএ সূত্রে খবর।

ভোটের আগে সন্ত্রাস ছড়াতেই বোমা বাঁধা হচ্ছিল!

এনআইএ-র চার্জশিটে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এক দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সাধারণ ভোটারদের মনে চরম ভয় ও ত্রাস তৈরি করার জন্যই সেখানে ব্যাপক পরিমাণে বোমা বাঁধা হচ্ছিল। আর এই পুরো অপারেশনটির ব্লু-প্রিন্ট এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে পুলিশের নজর এড়ানো যায়। শওকত মোল্লার নির্দেশেই তাঁর নিজের চেনা এলাকার বাইরে, অন্য একটি নিরাপদ গোপন ডেরায় এই বোমা বাঁধার কাজ নিখুঁতভাবে চালানো হচ্ছিল। এই মামলায় মোট ৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে ইতিমধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২ জনের নামে চার্জশিট জমা দেওয়া হলো।

এদিকে, মঙ্গলবারই শওকত মোল্লাকে বিশেষ এনআইএ আদালতে হাজির করা হয়েছিল। আগামী ১৯ তারিখ তাঁর হাজিরার দিন ধার্য থাকলেও, কৌশলগত কারণে এদিনই তাঁকে আগাম আদালতে পেশ করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানান গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে আদালতে দাঁড়িয়ে এনআইএ-র আইনজীবীরা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, হেভিওয়েট এই নেতা তদন্তে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করছেন না।

গ্রেফতার নাকি আত্মসমর্পণ? ধোঁয়াশা রাজনৈতিক মহলে

উল্লেখ্য, ভাঙড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর বেশ কিছুদিন পলাতক থাকার পর দিল্লির সদর দফতর থেকে এক বিবৃতিতে এনআইএ জানিয়েছিল যে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পলাতক প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে তাঁরা গ্রেফতার করেছেন।

যদিও এই গ্রেপ্তারি নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন শওকতের মেয়ে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “বাবা গ্রেফতার হননি, বরং নিজেই আত্মসমর্পণ করেছেন। আগের দিন এনআইএ-র অফিসাররা যখন আমার ভাইকে ছাড়েন, তখন বাবাকে দেখা করতে বলেছিলেন। বাবা তখন একটা কাজে বাইরে ছিলেন। বাড়ি ফিরে অফিসারদের সঙ্গে নিজে কথা বলে তিনি সারেন্ডার করেছেন।”

Related Articles