পাহাড়ের শেষকথা আবার সেই বিমলই! কার্শিয়াংয়ে শুভেন্দুর পাশে একই মঞ্চে গুরুং
পাহাড়ে তৃণমূল এক্কেবারে ‘ওয়াশ আউট’! শুভেন্দুর পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে দার্জিলিংয়ের নয়া ‘কিং মেকার’ বিমল গুরুং
Truth of Bengal: ২০১৭ সালের সেই অভিশপ্ত ১৩ অক্টোবর। গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় দার্জিলিংয়ের জঙ্গলে বিমল গুরুংয়ের গোপন ডেরায় অভিযান চালাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন তরুণ পুলিশ অফিসার অমিতাভ মালিক। সেই খুনের মামলায় নাম জড়িয়েছিল পাহাড়ের অবিসংবাদিত নেতা বিমল গুরুংয়ের (Bimal Gurung)। তারপর থেকে বছরের পর বছর ফেরার, কোণঠাসা এবং পাহাড়ের রাজনীতিতে কার্যত ‘ইতিহাস’ হয়ে যাওয়া সেই বিমল গুরুংই ছাব্বিশের জুনে এসে ফের দার্জিলিংয়ের ভাগ্যবিধাতা! বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের বুকে পদ্ম ফোটানোর অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে এবার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটল এই গোর্খা নেতার। মঙ্গলবার পাহাড় সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) পাশে একই মঞ্চে হাসিমুখে দেখা গেল গুরুংকে, যা দেখে রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট মত, পাহাড়ের ‘কিং মেকার’ আসলে বিমলই।
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গুরুংয়ের কি এবার সম্পূর্ণ মুক্তি?
এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে পাহাড় ও সমতলে ঝড় তুলেছিল বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও জিএনএলএফ (GNLF)। পাহাড়ে তৃণমূলকে কার্যত ‘ওয়াশ আউট’ করে তিনটি আসনই জিতেছে এই জোট। নির্বাচনের প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তৃণমূল আমলে গোর্খাদের ওপর দেওয়া সমস্ত মিথ্যা মামলা নতুন সরকার এলে তুলে নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করার ঘোষণা করে জানান, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই মামলা প্রত্যাহারের কাজ শুরু করে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিমল গুরুংয়ের ওপর থাকা অমিতাভ মালিক খুনের মামলা বা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাগুলিও কি এবার রফাদফা হতে চলেছে?
জিটিএ দুর্নীতির ফাইল খুলছেন শুভেন্দু, কোণঠাসা অনীত-অজয়
এদিন পাহাড়ের মাটি থেকে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “বিগত দিনে জিটিএ (GTA)-র আড়ালে যে বিপুল পরিমাণ টাকার লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে, তার ফাইল এবার খোলা হবে। পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগও হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পাশে দাঁড়িয়ে পাহাড় জুড়ে একাধিক কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছেন গুরুং।
অন্যদিকে, ভোটে হেরে কার্যত ব্যাকফুটে চলে গিয়েছেন গুরুংয়ের একদা প্রতিদ্বন্দ্বী অনীত থাপা এবং অজয় এডওয়ার্ডরা। তাঁরা এখন কার্যত ঘরবন্দি, সংবাদমাধ্যমের ফোনও তুলছেন না। ২০০৭ সালে সুবাস ঘিসিংকে নির্বাসনে পাঠিয়ে যেভাবে পাহাড়ের রাশ নিজের হাতে নিয়েছিলেন বিমল, চব্বিশের লোকসভা বা ছাব্বিশের বিধানসভায় পাহাড়ের তিনটি আসন গেরুয়া শিবিরকে উপহার দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, পাহাড়ে ঘাসফুল কিংবা অন্য কোনও ফুল নয়, শেষকথা বিমল গুরুংই।






