একা নন, ‘টিমওয়ার্ক’ করতেন কালীচরণ! তারাতলাকাণ্ডে আদালতে বিস্ফোরক দাবি পুলিশের, কে কে আছে সেই টিমে?
অভিযোগ উঠেছে, তার পিছনে শুধু একজন নন, একটি গোটা ‘টিম’ কাজ করছিল
Truth of Bengal: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় ধৃত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠাল আলিপুর আদালত। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশ দাবি করে, গুদাম নির্মাণে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তার পিছনে শুধু একজন নন, একটি গোটা ‘টিম’ কাজ করছিল। সেই টিমে কারা ছিলেন, কালীচরণের মাথার উপর কার হাত ছিল, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তদন্তকারীরা। সরকারি পক্ষের অভিযোগ, তারাতলার ওই গুদামের নকশাতেই বড়সড় ত্রুটি ছিল। সেই ত্রুটিপূর্ণ নকশায় অনুমোদনের সঙ্গে কালীচরণের ভূমিকা ছিল বলে আদালতে দাবি করে পুলিশ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, নির্মাণ সংক্রান্ত কোনও সমস্যা বা বাধা থাকলে তা মিটিয়ে দেওয়ার মতো প্রভাব ছিল ধৃতের। এমনকি যে কাজ হওয়া সম্ভব নয়, তাও করিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। কালীচরণকে ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তি বলেও দাবি করে পুলিশ।
তারাতলার দুর্ঘটনার পর থেকেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় একটি নথি তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ত্রুটিপূর্ণ নকশাতেই ছাড়পত্র দিয়েছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে ফিরহাদের তৎকালীন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার আদালতে সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল জানান, ধৃত কী ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তার প্রাথমিক ইঙ্গিত কেস ডায়েরিতে রয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর বয়ানও নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও অনেক তথ্য সামনে আসা বাকি। বিশেষ করে কালীচরণ একা কাজ করতেন কি না, তাঁর সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন, কার নির্দেশে বা কার ছত্রছায়ায় এই অনিয়ম চলছিল, তা জানা জরুরি। শুনানির সময় বারবার ‘টিমওয়ার্ক’-এর প্রসঙ্গ তোলে পুলিশ। তাদের দাবি, তারাতলার অনিয়মের নেপথ্যে একাধিক ব্যক্তির যোগ থাকতে পারে। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে। সরকারি আইনজীবীর প্রশ্ন, কালীচরণের রক্ষাকর্তা কে? তাঁর মাথার উপর কার হাত রয়েছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন বলে আদালতে দাবি করা হয়। সরকারি পক্ষের বক্তব্য, ধৃতকে সম্পূর্ণভাবে হেফাজতে না পেলে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া কঠিন হবে।
অন্যদিকে, কালীচরণের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়, তারাতলার ঘটনার এফআইআরে তাঁর নাম নেই। তাঁর আইনজীবী বলেন, কালীচরণকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পরবর্তী তদন্তের নামে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রতিরক্ষার দাবি, তিনি পুরসভায় কাজ করতেন। যে নথির কথা বলা হচ্ছে, তা পাবলিক ডোমেনে রয়েছে। সেই নথির ভিত্তিতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। তবে দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পুলিশের আবেদন মেনে নেয়। কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, তারাতলার গুদাম নির্মাণে অনুমোদন, নকশা ও অনিয়মের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত ছিলেন।




