মসজিদের মাইক খোলার প্রতিবাদে মিছিলের অনুমতি, হাইকোর্টের নজিরবিহীন নির্দেশে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি
পুলিশকে নজিরবিহীন ভর্ৎসনা হাইকোর্টের! মাইক বিতর্ক নিয়ে রাজ্যকে বড় ধাক্কা বিচারপতির?
Truth of Bengal: ধর্মীয় স্থান থেকে লাউডস্পিকার বা মাইক খুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে গর্জে উঠল প্রতিবাদ। এই ইস্যুতে আয়োজিত মিছিলকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা চরম আকার ধারণ করলেও, শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপেই কাটল জট। আগামী ১১ অগস্ট শহরের রাজাবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে এক প্রতিবাদ মিছিলের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে আদালতের কড়া নির্দেশ, প্রতিবাদ মিছিলে মাইক খোলা নিয়ে সরব হওয়া হলেও, সেই মিছিলে নিজেদেরই কোনও লাউডস্পিকার বা মাইক ব্যবহার করা যাবে না।
সোমবার সকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে উল্লেখ করেন মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। শুনানি চলাকালীন আবেদন খারিজের পুলিশি সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। পুলিশের তীব্র সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, ৩ অগস্ট অনুমতি চাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে শুক্রবার রাতে তা নাকচ করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। পুলিশ চাইলে আগেই সিদ্ধান্ত জানাতে পারত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মিছিল আটকানোর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে।
মামলায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ মিত্র জানান, মিছিলের আবেদনে কিছু গোপনীয়তা ছিল। সপ্তাহের কাজের দিনে কাজের ব্যস্ততার মাঝে ২ হাজার মানুষের বিশাল মিছিল অনুমতি দেওয়া কঠিন। তিনি বড়জোর ৩০০ জনের অংশগ্রহণে বিকল্প রুটের প্রস্তাব দেন। জবাবে মামলাকারীর আইনজীবী জানান, পুলিশ আলোচনা করলে তাঁরা রবিবারে মিছিল আয়োজন বা উপস্থিতি কমাতে রাজি ছিলেন। অবশেষে বিচারপতি নির্দেশ দেন, সর্বাধিক ৭৫০ জন সদস্য নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এক ঘণ্টার মধ্যে এই মিছিল সম্পন্ন করতে হবে।
উল্লেখ্য, উপাসনাস্থল থেকে বলপূর্বক লাউডস্পিকার খুলে ফেলার সমস্ত অভিযোগ নবান্ন থেকে আগেই খারিজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের দাবি, কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থানকে নিশানা করা হয়নি। ২০২০ সালের কলকাতা হাইকোর্টের শব্দদূষণ সংক্রান্ত পুরনো নির্দেশাবলী কার্যকর করতেই রাজ্যজুড়ে এই পদক্ষেপ। মন্দির ও মসজিদ, উভয় স্থান থেকেই নিয়ম মেনে অতিরিক্ত ও বেআইনি লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে বলে রাজ্য প্রশাসন সাফ জানিয়েছে।






