“বাড়ি আসছি, দেখা হবে”, শেষ কথা রাখতে পারলেন না রোহিত! তারাতলা বিপর্যয় কান্নায় ভেঙে পড়লেন দিদি
মঙ্গলবার রাতের শেষ ফোন, বুধবার তারাতলার ধ্বংসস্তূপে লাশ হল রোহিত
Truth of Bengal: “দিদি, খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি আসছি, দেখা হবে।”, গত মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ ফোনে ছোট ভাইয়ের বলা এই শেষ কথাগুলোই এখন বারবার কানে বাজছে কৃষ্ণনগরের কানন দেবীর। কথা রাখতে পারলেন না বছর চল্লিশের রোহিত চৌধুরী। তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে ৫ তলা চায়ের গুদাম বিপর্যয়ের দানবীয় কংক্রিট আর লোহার বিমের নিচে চিঁড়েচ্যাপ্টা হয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে গেলেন তিনি। ভাইকে হারিয়ে এখন চোখের জলে ভাসছেন দিদি। এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়েও এই কঠিন ও রূঢ় বাস্তব কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। কান্না কিছুতেই বাঁধ মানছে না তাঁর।
পেশায় ঝালাইকর্মী (Welder) রোহিত গত পাঁচ মাস ধরে তারাতলার এই নির্মীয়মাণ গুদামটিতে কাজ করছিলেন। বুধবার সকালেও নিয়মমতো কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দুপুরের দিকে যখন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বিশাল পরিকাঠামোটি, তখন কৃষ্ণনগরে বসে টেলিভিশনের পর্দায় সেই ব্রেকিং নিউজ দেখছিলেন তাঁর দিদি। স্ক্রিনে তারাতলার ধ্বংসস্তূপ দেখেই মন কু ডেকে উঠেছিল তাঁর। বারবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল একটাই প্রশ্ন, ওই মরণফাঁদের নিচে ভাই আটকে নেই তো? আশঙ্কাই সত্যি হলো। স্বামীর সঙ্গে তড়িঘড়ি কলকাতায় এসে এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছাতেই জানতে পারেন, ভেতরে শায়িত রয়েছে ভাইয়ের নিথর দেহ।
জগদ্দলের কৃষ্ণের দাদাও স্তব্ধ, মাথায় ভেঙে পড়েছে আকাশ
এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের বাইরে রোহিতের দিদির মতোই ভাইকে শেষবার দেখার অপেক্ষায় পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন নিহত কৃষ্ণ চৌধুরীর দাদাও। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের বাসিন্দা কৃষ্ণ নিজের এলাকায় দিনের পর দিন ঘুরেও কাজ পাচ্ছিলেন না। অভাবের সংসারে দিন গুজরান করাই দায় হয়ে পড়েছিল। বাধ্য হয়েই পেটের টানে কলকাতার এই তারাতলা সাইটে দিনমজুরের কাজে এসেছিলেন তিনি।
বিধানসভায় আজ কী বলবেন শুভেন্দু? সাহায্যের আশায় পরিবার
কিন্তু পেটের ভাত জোগাতে এসে যে এমন নির্মম পরিণতি কপালে লেখা ছিল, তা স্বপ্নেও ভাবেনি পরিবার। ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারের দায়িত্ব কার ঘাড়ে গিয়ে পড়বে, সেই চিন্তায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে নিহতের দাদার। তিনি এখন শুধুই সরকারি সাহায্যের আশায় দিন গুনছেন।
এদিকে, তারাতলার এই মেগা বিপর্যয় প্রসঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিশেষ বিবৃতি দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লিজপ্রাপক চা সংস্থা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি আজই নবান্নের তরফে নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।


