কলকাতা

ধর্মতলায় টানা ৬০ দিন ১৬৩ ধারা জারি! তৃণমূলের একুশের সমাবেশ বিশ বাঁও জলে

১ জুলাইয়ের ধর্মতলা এবার সম্পূর্ণ ‘লকড’! কলকাতা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতেই ভেস্তে গেল তৃণমূলের মেগা প্ল্যান!

Truth of Bengal: একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক শহিদ দিবসের সমাবেশ ঠিক কোথায় হবে, এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র দড়ি টানাটানি চলছিল। দুই পক্ষই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার জন্য পুলিশের কাছে মরিয়া আবেদন জানিয়েছিল। এমনকি অনুমতি পাওয়ার আগেই ফিতে নিয়ে রাস্তা মাপতে নেমে পড়েছিলেন কুণাল ঘোষ, মালা রায়ের মতো কালীঘাট তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব, যা নিয়ে মামলাও দায়ের হয়। কিন্তু এই সমস্ত রাজনৈতিক তরজার ওপর এক ঝটকায় জল ঢেলে দিল কলকাতা পুলিশ। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো, আগামী ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা ৬০ দিন মধ্য কলকাতার এক বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ নম্বর ধারা (যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল) জারি থাকবে।

মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের নগরপাল অজয় নন্দা এই সংক্রান্ত একটি কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর বউবাজার থানা, হেয়ার স্ট্রিট থানা এবং হেডকোয়ার্টার্স ট্রাফিক গার্ডের আওতাধীন এলাকায় ৫ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে কেসি দাস মোড় থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস পর্যন্ত গোটা এলাকা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে, কেবল বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটকে এর বাইরে রাখা হয়েছে। পুলিশের দাবি, কলকাতার এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম হৃদপিণ্ডে বেআইনি জমায়েত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে পারে, পাশাপাশি স্তব্ধ হতে পারে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যান চলাচল।

এই নিষেধাজ্ঞার জেরে আগামী ৬০ দিন সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠন কোনও ধরনের সভা, মিছিল, ধরনা, পদযাত্রা বা সমাবেশ করতে পারবে না। এমনকি লাঠি বা কোনও ধরনের অস্ত্র বহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকছে। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ১৬৩ ধারা জারি থাকার কারণে সেখানে ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যদি তৃণমূল বা অন্য কোনও পক্ষ শহিদ দিবস পালন করতে চায়, তবে তাদের কলকাতার অন্য কোনও বিকল্প স্থানের জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে এবং সেই আবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে লালবাজার।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি বছরই ২১ জুলাইয়ের মেগা শো ধর্মতলাতেই করে আসছে তৃণমূল। কিন্তু ২০২৬ সালের এই আবহে পুলিশের এই মেগা নিষেধাজ্ঞা শাসক শিবিরের অন্দরে বড় ধাক্কা। ধর্মতলার চেনা বৃত্ত থেকে এবার কি তবে সরে যাবে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ? কোন নতুন ঠিকানায় এবার লক্ষ লক্ষ কর্মীকে আহ্বান জানাবেন দলনেত্রী? এই প্রশ্নেই এখন ফুটছে বাংলার রাজনৈতিক মহল।

Related Articles