কলকাতা

পুলিশি হেফাজতে ‘মাছচোর’ গান শুনিয়ে অপমান! চরম ক্ষুব্ধ শওকত মোল্লা ছুটলেন হাইকোর্টে

কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

Truth of Bengal: পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া, সঙ্গে ‘মাছচোর’ গান বাজিয়ে কটূক্তি—এই অভিযোগে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। তাঁর দাবি, জীবনতলা বাজারে পুলিশের উপস্থিতিতে যে ঘটনা ঘটেছে, তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। সেই কারণেই নিজের মানবাধিকার রক্ষার আবেদন জানিয়ে মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। হাই কোর্ট সেই অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।বৃহস্পতিবার ক্যানিংয়ের জীবনতলা বাজারে শওকত মোল্লাকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণে যায় পুলিশ। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে রাস্তা দিয়ে জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শওকতকে দেখে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেই সময় ভোটের সময় ভাইরাল হওয়া ‘শওকত তো মাছ চোর’ গান বাজানো হয় বলেও অভিযোগ।

এই ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন শওকত মোল্লা। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় একজন অভিযুক্তকে এভাবে জনসমক্ষে নিয়ে গিয়ে কটূক্তির মুখে ফেলা যায় না। এটি তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন তিনি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার হন শওকত মোল্লা। পরে এক মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যানিং থানার পুলিশও তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সেই মামলাতেই পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তাঁকে জীবনতলা বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্রের খবর, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় শওকতকে দেখেই স্থানীয়দের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গান বাজিয়ে এবং কটূক্তি করে তাঁকে বিদ্রুপ করা হয় বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিকেই মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক।

এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট ধৃতদের কোমরে দড়ি বেঁধে, অর্ধনগ্ন অবস্থায় বা অপমানজনকভাবে জনসমক্ষে ঘোরানো নিয়ে পুলিশকে সতর্ক করেছিল। আদালত জানিয়েছিল, এ ধরনের আচরণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়তে পারে। সেই প্রেক্ষিতে এবার শওকতের মামলা নতুন করে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে পুলিশ সূত্রে দাবি, তাঁকে দড়ি বেঁধে বা অপমানজনকভাবে হাঁটানো হয়নি। শুধুমাত্র তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশি নিরাপত্তায় ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় গান বাজানো ও জনতার কটূক্তির বিষয়টিতেই শওকত মোল্লার মূল আপত্তি বলে মনে করা হচ্ছে। মামলাটি কোন এজলাসে উঠবে এবং কবে শুনানি হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, পুলিশি পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্তের মর্যাদা ও নিরাপত্তা কতটা রক্ষা করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নই এবার আদালতের নজরে আসতে চলেছে।

Related Articles