“অভিষেক একজন খুনি!” মদন মিত্রের বিস্ফোরক মন্তব্যের পরই ১০ কোটির মানহানির নোটিস পাঠালেন অভিষেক
একুশে জুলাইয়ের আগের রাতে সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন মদন
Truth of Bengal: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সমাজমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে আইনি বিপাকে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। মঙ্গলবার তাঁকে ১০ কোটি টাকার মানহানির নোটিস পাঠালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো ওই নোটিসে মদনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। একুশে জুলাইয়ের আগের রাতে সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন মদন। তাঁকে ‘খুনি’ এবং অর্থের বিনিময়ে বা সুপারি দিয়ে খুন করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ করতে শোনা যায়। মদনের সেই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অভিষেকের রাজনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে বলে আইনি নোটিসে দাবি করা হয়েছে।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯ জুলাই রাত ৯টা ৪০ মিনিট থেকে ১০টা পর্যন্ত মদন মিত্রের ভেরিফায়েড সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছিল। ভিডিওটির ৬ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের মাথায় তিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক অপমানজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, কোনও প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে অপরাধী ও খুনি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে তৈরি তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করাই এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল বলে নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে। লাইভের শেষ দিকে মদনকে ‘অ্যানিথিং মোর?’ বলতে শোনা যায়। নোটিসে এই অংশটিরও উল্লেখ রয়েছে। অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, ক্যামেরার বাইরে থাকা কারও উদ্দেশে ওই প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে মনে হচ্ছে। সেই কারণে মন্তব্যগুলি কারও নির্দেশে বা পূর্বপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
আইনি নোটিসে মদন মিত্রকে দুটি শর্ত পূরণের জন্য তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লিখিতভাবে এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই শর্তগুলি না মানলে মদনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও নোটিসে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে একুশে জুলাইকে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবার সরাসরি মানহানির আইনি লড়াইয়ের পর্যায়ে পৌঁছল।






