ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে পুজোর টিকিট বিক্রি! ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে দায়ের অভিযোগ
‘মেঘদূত ফাউন্ডেশন’-এর দুই কর্ণধার জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এবং সগুনা মুখোপাধ্যায় যৌথভাবে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেছেন।
Truth of Bengal: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে হেরিটেজ বা আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো (UNESCO)। এবার বিশ্বখ্যাত সেই সংস্থার নাম সম্পূর্ণ বেআইনি ও বিভ্রান্তিকরভাবে ব্যবহার করে খাস কলকাতায় দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘প্রিভিলেজড প্রি-পুজো এন্ট্রি’ টিকিট বিক্রির এক মারাত্মক জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এল। আর এই আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতারণামূলক কার্যকলাপ চালানোর সরাসরি অভিযোগ উঠল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে। এই আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার বিষয়ে সোমবার বিকেলে কলকাতা পুলিশের কমিশনার (CP), রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DG) এবং কলকাতার বৌবাজার থানায় একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে পুজোর টিকিট বিক্রি! ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে দায়ের অভিযোগ pic.twitter.com/y3tJlwVjpd
— thetruthofbengal (@TruthofBengalX) June 9, 2026
‘মেঘদূত ফাউন্ডেশন’-এর দুই কর্ণধার জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এবং সগুনা মুখোপাধ্যায় যৌথভাবে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন ছাড়াও এই লিখিত অভিযোগে নাম রয়েছে ধ্রুবজ্যোতি বসু (শুভ), সায়ন্তন মৈত্র এবং রাজন চট্টোপাধ্যায় নামে আরও তিন ব্যক্তির। অভিযোগকারী সংস্থাটির দাবি, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর লোগো ও নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষ ও পুজোপ্রেমীদের কাছ থেকে পুজোর আগের প্রিভিউ শোয়ের জন্য চড়া দামে ভিআইপি প্রিভিলেজড টিকিট বিক্রি করা হচ্ছিল। অথচ ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা এই ধরনের কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি বা টিকিট বিক্রির অনুমোদন কাউকেই কোনওদিন দেয়নি।
নিজেদের দাবির সপক্ষে একগুচ্ছ অকাট্য প্রমাণও পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে অভিযোগকারী সংস্থাটি। অভিযোগপত্রের সঙ্গে অফিশিয়াল ইমেল এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সেই সব নথিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, এই ধরনের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বা প্রি-পুজো এন্ট্রি টিকিট বিক্রির সঙ্গে ইউনেস্কোর দূর-দূরান্তের কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে প্রাক্তন মন্ত্রীর পরিবারের নাম জড়িয়ে যে চক্রটি সক্রিয় হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ জালিয়াতি ও আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতারণার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, কলকাতার দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কো হেরিটেজ মান্যতা দেওয়ার পর থেকেই কিছু অসাধু মাথা একে নিজেদের মুনাফা লোটার হাতিয়ার বানাতে চাইছে। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রীর ছত্রছায়ায় পুজোর মরসুমকে সামনে রেখে এই আন্তর্জাতিক স্তরের অবৈধ বাণিজ্য চক্রটি গড়ে উঠেছিল বলে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। পুজো মণ্ডপগুলিতে সাধারণ মানুষের ঢল নামার আগেই ‘প্রিভিলেজড এন্ট্রি’ বা আগাম ঠাকুর দেখার পাইকারি টিকিট চড়া দামে বিক্রি করে বিপুল টাকা তোলার ছক কষা হয়েছিল বলে ধারণা। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে এই চরম অস্বস্তিকর অভিযোগ ওঠার পর লালবাজারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে জমা পড়া আইনি নথিপত্রগুলি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।





