‘বিদ্রোহী’ দলে যোগ নয়, সম্মান বাঁচাতে সাংসদ পদই ত্যাগ করছেন কোয়েল!
রাজনীতিকে চিরতরে আলবিদা? তৃণমূলের মহাপ্রলয়ের মাঝেই রাজ্যসভা ছাড়তে দিল্লি ছুটলেন কোয়েল মল্লিক!
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বঙ্গে ঐতিহাসিক ক্ষমতা বদলের পর থেকেই আদি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে মহাধস নেমেছে, তার আঁচ এবার টলিউড তথা সিনেমা জগতেও এসে পড়ল। বিধানসভা এবং লোকসভার সংসদীয় দল ভেঙে টুকরো হওয়ার পর, এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়তে চলেছেন বাংলার জনপ্রিয় সুপারস্টার কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)। দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে যে, তৃণমূলের এই চরম সংকটের দিনে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতেই তড়িঘড়ি দিল্লি রওনা দিয়েছেন অভিনেত্রী। গত এপ্রিল মাসেই তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়া কোয়েলের এই আকস্মিক দিল্লি সফর ঘিরে আপাতত তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
এপ্রিলের মহৎ দায়িত্ব থেকে জুনের ইস্তফা! অবাক ঘনিষ্ঠ মহল
কোয়েল মল্লিকের মতো লাইমলাইট ও বিতর্ক থেকে দূরে থাকা অভিনেত্রী আচমকা রাজনীতিতে পা রাখায় গত এপ্রিল মাসেই বেশ বিস্মিত হয়েছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল। গত ফেব্রুয়ারিতে যখন তৃণমূলের তরফে রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায় রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় এবং মেনকা গুরুস্বামীর পাশাপাশি কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করা হয়, তখন অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। এর কিছুদিন আগেই মল্লিকবাড়িতে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান দিয়ে এসেছিলেন।
দিল্লিতে শপথ নেওয়ার পর কোয়েল অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানিয়েছিলেন যে, দেশের ও মানুষের সেবা করার এই মহৎ সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছেন। কিন্তু ছাব্বিশের জুনে এসে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। যাদের হাত ধরে তিনি সংসদে গিয়েছিলেন, সেই তৃণমূল এখন ক্ষয়িষ্ণু। এই পরিস্থিতিতে অভিনেত্রী কোনও ‘বিদ্রোহী’ বা দলবদলু শিবিরের অংশ না হয়ে, নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখতেই এই ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তাঁর বন্ধুমহল সূত্রে খবর।
ভোটব্যাঙ্কের অঙ্ক বনাম রিয়েল এস্টেটের জল্পনা
তৃণমূলের একটি পুরোনো সূত্র দাবি করেছিল, কোয়েলের পাঞ্জাবি পরিবারে বিয়ে হওয়ার কারণে ভবানীপুরের পঞ্জাবি ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিতেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোয়েলকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। যদিও ভোটের ফলাফলে এই ‘তেলা মাথায় তেল’ দেওয়ার তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে।
দলের অন্দরে অবশ্য অন্য এক জল্পনাও ছিল। কোয়েলের স্বামী প্রযোজনা ছাড়াও রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসার স্বার্থেই নাকি তিনি কোয়েলকে মমতার অনুরোধ ফেলতে বারণ করেছিলেন। তবে কোয়েল-ঘনিষ্ঠ এক অভিনেতা এই রটনা উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, কোয়েল কখনও অনৈতিক কাজ বা পদের লোভ করেননি। এমনকি কোয়েলের অভিনেতা পিতা রঞ্জিত মল্লিকও (Ranjit Mallick) মেয়ের সাংসদ হওয়ার পর বলেছিলেন, “কোয়েল বুঝদার মেয়ে, খুবই বুদ্ধি নিয়ে সৎ পথে কাজ করুক, এটাই চাওয়া।” সোমবার সকাল থেকে এই মেগা পদত্যাগ নিয়ে কোয়েলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন নীরব ছিল। তবে ছাব্বিশের এই পালাবদলের বাজারে কোয়েলের এই রাজনৈতিক সন্ন্যাস যে বড়সড় ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য।






