কলকাতা

দর্শনার্থীদের রাজা বীর সিংহ ও রাই কুমারীর ‘শিবাণী ধাম’-এ নিয়ে যেতে প্রস্তুত বেহালা নূতন দল

চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে মগ্ন পুজো কমিটিগুলোও।

Truth Of Bengal: আশ্বিনের শারদপ্রাতে আলোক মঞ্জির বেজে উঠতে এখন আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। কিন্তু নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘের ভেলার আনাগোনা আর মাঝেমধ্যে ঝেঁপে বৃষ্টি জানান দিচ্ছে শরৎকাল এসে গেছে।

রাস্তায় রাস্তায় বাঁশের ম্যারাপ বাঁধা, জামাকাপড়, গয়নার দোকানে, জুতোর দোকানে, শপিং মলের ভিড়ে স্পষ্ট বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব যা আজ কার্নিভালের রূপ নিয়েছে সেই দুর্গোৎসব আসন্ন।     চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে মগ্ন পুজো কমিটিগুলোও। উত্তর হোক কিংবা দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন পুজো কমিটি প্রতিবছরই নজরকাড়া থিমে একে অপরকে টেক্কা দেয়। অভিনব থিমে কে কত বেশি লোক নিজের প্যান্ডেলে টানতে পারবে এনিয়ে প্রতিনিয়ত তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে। যেমন, বেহালা নূতন দল পুজো কমিটি এবছর হীরক জয়ন্তী বর্ষে দর্শনার্থীদের নিয়ে যাবে রাজা বীর সিংহ ও রাই কুমারীর ‘শিবাণী ধাম’-এ।

পুজো কমিটির কর্তা সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রায় ৫০০ বছর আগে বাংলা, বিহার ও ওড়িশা মিলিয়ে গড়ে ওঠা সুবে বাংলায় কিররানি রাজত্বর রাজা দাউদ খানকে যুদ্ধে হারিয়ে বাংলার উত্তরাঞ্চলে সংগ্রামপুর নামে এক স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন বুন্দেলখণ্ড থেকে আসা রাজা রাজকিশোর সিংহ। তাঁর সঙ্গে মুঘল সম্রাটদের ছিল সখ্য। গড়ে তোলেন বিশাল এক সাম্রাজ্য। রাজপ্রাসাদ তৈরি করা শুরু হয় রাজা রাজকিশোর সিংহর আমলে।

সেই নির্মাণ কাজ শেষ হয় যখন তাঁর ছেলে বীর সিংহ রাজা হন। বুন্দেলখণ্ড ও মুঘল আমলের স্থাপত্যর আদলে রাজপ্রাসাদ গড়ে ওঠে। বংশপরম্পরায় শিবের উপাসক ছিল রাজ পরিবার। রানি চন্দ্রাবতীর আগ্রহে শিবের মূর্তি স্থাপন করেন রাজা বীর সিংহ। তাঁর রাজসভায় কবিতা ও সঙ্গীতে সুরারোপ করতেন কবি ও গীতিকার রাই কুমারী। রাই কুমারী ইষ্ট দেবী শিবাণীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে রাজা বীর সিংহকে মন্দির গড়ে তোলার অনুরোধ করেন।

রাজা বীর সিংহ শিবমূর্তির সামনে শিবাণীর সুন্দর মন্দির গড়ে দেন। সে কাহিনি এখানে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।’ সামগ্রিক ভাবে সৃজনের দায়িত্বে রয়েছেন একসঙ্গে ৩ স্বনামধন্য শিল্পী রণো বন্দ্যোপাধ্যায়, অমর সরকার ও সঞ্জয় ভট্টাচার্য। প্রতিমা শিল্পী অরিঘ্ন সাহা। আলোর দায়িত্বে রয়েছেন শান্তনু দাস ও মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন স্বপন পাল।

Related Articles