কলকাতা

দমবন্ধ পরিস্থিতি, কাজ করেনি আপৎকালীন দরজাও! টালিগঞ্জে মেট্রো বিভ্রাটে যাত্রীদের হাহাকার

যাত্রীদের টালিগঞ্জ মুখী কামরার দিকে এগোতে বলা হয়। ধীরে ধীরে দরজা খোলা হয়।

Truth Of Bengal: কলকাতা মেট্রোর ভরসার বদলে দিন দিন যাত্রীদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠছে। রবিবার বেলা ১১টার পরে ব্লু লাইনের শহীদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী মেট্রোতে যাত্রার সময় আমি সেই আতঙ্কের মুখোমুখি হলাম, যা জীবনে ভুলব না। সমস্যা শুরু হয় মহানায়ক উত্তম কুমার (টালিগঞ্জ) স্টেশনে ঢোকার ঠিক আগে। হঠাৎ মেট্রো ঝাঁকুনি দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়, বন্ধ হয়ে যায় কামরার সব আলো ও এসি। তখনই বোঝা যায়, বড়সড় কোনো সমস্যা ঘটেছে।

এই উদ্বেগের মধ্য দিয়ে প্রায় ১২-১৩ মিনিট কেটে যায়। মেট্রোর পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা নেই, কিচ্ছু জানানো হয়নি। আরও ১০ মিনিট কাটার পর কামরার ভেতরে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। কেউ কেউ হাহাকার শুরু করেন, আর বলছেন, “দরজা খোলা হোক, আমরা শ্বাস নিতে পারছি না।” কিন্তু মেট্রো কর্মকর্তাদের হুঁশ নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে অবহেলিত।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। কিছু যাত্রী দুই প্রান্তিক কামরা থেকে চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চালকের উত্তর, “গাড়িটা খারাপ হয়ে গেছে।” কিন্তু অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের কী হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। হতাশা বাড়তে থাকে, কেউ কেউ জানলা ভাঙার হুমকি দেন। মিনিট ৩৫ কেটে যায়, কিন্তু আপৎকালীন দরজা কাজ করছে না। বোঝা যায়, নামমাত্র এমার্জেন্সি ডোরও বিপদের সময়ে কার্যকর নয়।

অবশেষে মেট্রো কর্তৃপক্ষ হুঁশ পায়। যাত্রীদের টালিগঞ্জ মুখী কামরার দিকে এগোতে বলা হয়। ধীরে ধীরে দরজা খোলা হয়। কেউ কেউ ট্র্যাকে লাফ দিতে চাইলেও তা সম্ভব নয়, কারণ থার্ড লাইনে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। অবশেষে একটি স্লাইডিং সিঁড়ি যুক্ত করা হয়, আর ধীরে ধীরে যাত্রীরা বাইরে বের হতে সক্ষম হন। তবে বয়স্ক যাত্রীদের জন্য তা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই বিভ্রাট কলকাতা মেট্রোর কার্যক্রম এবং যাত্রী নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। কেন মাঝপথে মেট্রো বিভ্রাট ঘটলে আপৎকালীন ব্যবস্থা থাকবে না? কেন দরজা খোলা হলো না? কেন যাত্রীদের উদ্ধার করতে এত সময় লাগল? এটি কি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, উপস্থিত বুদ্ধির অভাব, নাকি ঘটনার গুরুত্ব বোঝার ভুল? যারা দিনের পর দিন পরিশ্রম করে মেট্রোর ওপর আস্থা রাখেন, তাদের কাছে এই প্রশ্নগুলির জবাব দেওয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

Related Articles