ইরানে বিপ্লবের আগুন! মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের প্রতিবাদে দেশজুড়ে শাসকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিদ্রোহ
তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েই বৃহস্পতিবার তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ।
Truth Of Bengal: ইরানে মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার মানের অবনতির মতো একাধিক ইস্যুতে গত কয়েক দিন ধরেই তীব্র গণবিক্ষোভ চলছে। ক্রমশ এই আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার নিচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েই বৃহস্পতিবার তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ।
বিক্ষোভ চলাকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান ওঠে। অনেককে বলতে শোনা যায়, “স্বৈরাচারী নিপাত যাক”, আবার কারও মুখে ধ্বনিত হয়, “এটাই শেষ যুদ্ধ, পাহলভি ফিরছেন।” একসুরে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন আন্দোলনকারীরা। ক্রমবর্ধমান এই প্রতিবাদে কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইরানের প্রশাসন।
এক সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, টেলিফোন ও ল্যান্ডলাইনের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। শুক্রবার এই গণআন্দোলন টানা ১২ দিনে পা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য, কাজের অভাব এবং ক্রমাগত নেমে যাওয়া জীবনযাত্রার মান তাঁদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রেজা পাহলভি। সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ইরানের লক্ষ লক্ষ মানুষ স্বাধীনতা চাইছেন। সেই কারণেই সরকার সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে, এমনকি ল্যান্ডলাইন সংযোগও কেটে দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত স্যাটেলাইট সিগন্যাল আটকাতে জ্যামারও ব্যবহার করা হচ্ছে।”
পাহলভি আরও জানান, তিনি ইরানের প্রতিবাদীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলির কাছেও তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ইরানের আন্দোলনরত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়।
উল্লেখ্য, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সেনা ও পুলিশের সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এর আগেই ট্রাম্প খামেনেই প্রশাসনকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “ওরা যদি মানুষ মারা শুরু করে, তাহলে আমরা ওদের উপর কঠিন আঘাত হানব।” যদিও জানা যাচ্ছে, ট্রাম্প রেজা পাহলভির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি।






