ইরান ছাড়ার নির্দেশ মার্কিন নাগরিকদের, বৈঠকের আগেই বাড়ল যুদ্ধের আশঙ্কা
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত নথিপত্র।
Truth Of Bengal: শুক্রবার ওমানে পরমাণু প্রকল্প সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের। ঠিক সেই বৈঠকের আগেই ইরান থেকে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই সতর্কবার্তার জেরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা মাথাচাড়া দিয়েছে ইরান-সহ গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে। কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত নথিপত্র। প্রকাশ্যে এসেছে এপস্টিন ও তাঁর চিকিৎসকদের মধ্যে চালাচালি হওয়া একাধিক ই-মেল। একটি ই-মেলে দেখা যায়, ‘ডক্টর ম্যাক্সম্যান’ নামে এক চিকিৎসক তাঁকে যৌনাঙ্গবর্ধক ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিচ্ছেন। এমন ধরনের আরও বহু মেলের সন্ধান মিলেছে। ই-মেলগুলিতে এ-ও উঠে এসেছে, যৌন উত্তেজনাবর্ধক ওষুধ নিয়ে যুবকদের মধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করতেন এপস্টিন।
এপস্টিনের মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, জীবনের শেষ কয়েক বছরে তাঁর শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ছিল প্রতি ডেসিলিটারে মাত্র ১২৫ থেকে ১৪২ ন্যানোগ্রাম। যেখানে একজন সুস্থ পূর্ণবয়স্ক পুরুষের শরীরে এই মাত্রা সাধারণত প্রতি ডেসিলিটারে প্রায় ৩০০ ন্যানোগ্রাম হওয়ার কথা। টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি ও যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং ২০১৫ সালে চিকিৎসকদের ই-মেল করে এর সমাধানও চেয়েছিলেন।
একজন চিকিৎসক তাঁকে ক্লোমিড জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়ে ২০১৬ সালেই সেই ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেন এপস্টিন। মেডিক্যাল রিপোর্টে আরও উল্লেখ রয়েছে, তিনি একাধিক যৌনরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর মূত্রে রক্তের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল।
শুক্রবার মার্কিন বিচার দফতর এপস্টিন ফাইলের প্রায় ৩০ লক্ষ পাতা প্রকাশ্যে এনেছে। এই বিপুল নথির মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। এর আগে প্রকাশিত নথিতে জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনকে।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে নাবালিকা ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহের অভিযোগে এপস্টিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। পরে ২০১৯ সালের অগস্টে গ্রেপ্তারির প্রায় এক মাসের মাথায় জেলেই আত্মহত্যা করেন তিনি। দেশ-বিদেশের চাপের মুখে পড়ে গত বছরের নভেম্বরে এপস্টিন সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন।






