যুদ্ধ থামানোর কেন্দ্রবিন্দুতে পাকিস্তান! ইসলামাবাদেই কি মুখোমুখি বসছে আমেরিকা ও ইরান?
রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে।
Truth Of Bengal: পশ্চিম এশিয়ায় গত সাড়ে তিন সপ্তাহ ধরে চলা অস্থিরতা কাটাতে এবার বড়সড় কূটনৈতিক মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলা এবং পালটা হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ইরানের ‘অবরুদ্ধ’ করে রাখার ফলে বিশ্ববাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও, সোমবার হঠাৎই সুর নরম করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, আগামী পাঁচ দিন কোনো হামলা হবে না এবং ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক স্তরে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তেহরান সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে ইউরোপীয় সূত্রগুলোর দাবি— পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মাধ্যমে দু’পক্ষের মধ্যে ‘পরোক্ষ বার্তা’ আদান-প্রদান চলছে।
রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। সূত্রের খবর, আমেরিকার প্রতিনিধিদলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের পাশাপাশি স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারের মতো প্রভাবশালী কূটনীতিকরা থাকতে পারেন। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ আলোচনায় অংশ নিতে পারেন বলে জল্পনা তুঙ্গে। এমনকি ‘দ্য টাইমস’-এর দাবি অনুযায়ী, মার্কিন কূটনীতিক উইটকফ ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন, যদিও হোয়াইট হাউস থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত বার্তা মেলেনি।
এই শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকা এখন সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান নিজেই ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনকে দিয়েছিল। এই লক্ষ্যেই গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এর ঠিক পরের দিনই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তান ছাড়াও তুরস্ক ও মিশরের বিদেশমন্ত্রীরা দুই পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন দেখার, ইসলামাবাদের এই সম্ভাব্য বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে শান্তির বাতাবরণ ফিরিয়ে আনতে কতটা সফল হয়।






