আমেরিকার চাপ, চিন–রাশিয়ার অস্ত্রে ভরসা ইরানের
এই ক্ষেপণাস্ত্র দূরপাল্লায় সমুদ্রপথে থাকা যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানতে সক্ষম এবং উচ্চ গতির জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের মত।
Truth Of Bengal: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। ইরান–এর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জল্পনার মাঝেই নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে তৎপর তেহরান। সূত্রের খবর, চিন এবং রাশিয়া–র সঙ্গে একাধিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে এগোচ্ছে ইরান। খবর অনুযায়ী, চিনের তৈরি উন্নতমানের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে সিএম-৩০২ নামের অ্যান্টি-শিপ মিসাইল কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে।
এই ক্ষেপণাস্ত্র দূরপাল্লায় সমুদ্রপথে থাকা যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানতে সক্ষম এবং উচ্চ গতির জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের মত। সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাসে ইরানের উচ্চপদস্থ প্রতিরক্ষা আধিকারিকরা একাধিকবার চিন সফর করেছেন। তাঁদের মধ্যে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসুদ ওরাইয়ের নামও উঠে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য মার্কিন নৌ-চাপ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ। শুধু চিন নয়, রাশিয়ার সঙ্গেও উন্নত অস্ত্র কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে ইরান। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও শোল্ডার-ফায়ার্ড সিস্টেম কেনার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, ইরানের প্রতিনিধিরা গোপনে মস্কো সফর করে এই সমঝোতা চূড়ান্ত করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন বলে খবর। এমনকি মার্কিন প্রশাসনের কিছু প্রতিবেদনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে ঘিরে হুমকির ইঙ্গিতও উঠে এসেছে, যদিও এসব দাবি নিয়ে স্পষ্ট সরকারি অবস্থান সামনে আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অস্ত্র কেনার পদক্ষেপ কেবল প্রতিরক্ষা জোরদার করার চেষ্টা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। আমেরিকার সঙ্গে টানাপোড়েনের আবহে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে স্পষ্ট যে, সামরিক প্রস্তুতিতে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না তেহরান।






