আন্তর্জাতিক

সংঘর্ষবিরতি ভেঙে লেবাননে ফের ইজরায়েলি হামলা, হতাহত বহু

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইজরায়েলি সেনার হামলার পর তেহরানের মদতপুষ্ট শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লা পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

Truth of Bengal: সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ফের লেবাননে হামলা চালাল ইজরায়েল। শুক্রবার নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হানায় অন্তত আট জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে এক মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের প্রশাসনিক সূত্র। পাশাপাশি, দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জনপদ এবং সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলায় আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবানানের সরকার।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইজরায়েলি সেনার হামলার পর তেহরানের মদতপুষ্ট শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লা পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। তার জবাবে রাজধানী বেইরুট-সহ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায় তেল আভিভ। ফলে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভারত-সহ প্রায় ৩০টি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতির কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে ফের হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পশ্চিম এশিয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজরায়েল-লেবানন সংঘর্ষ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অন্যতম বড় বাধা। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রেও এই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান বারবার দাবি করে এসেছে, সমঝোতার আগে লেবাননে ইজরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই দক্ষিণ লেবাননে সক্রিয় হিজবুল্লা তেল আভিভের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করে। এরপর প্রায় এক বছর ধরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরে আমেরিকা ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল দুই দেশ। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের উপর হামলার পর সেই পরিস্থিতি আবার দ্রুত অবনতির দিকে যায়। নতুন করে ইজরায়েলি হামলায় সংঘর্ষ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

Related Articles