মাঝরাতে দাউদাউ আগুন! পুড়ে ছাই খেজুরির সৈকতের ৪০টি দোকান, অভিষেকের নিশানায় বিজেপি
ভস্মীভূত ৪০টি দোকান! খেজুরিতে মাঝরাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ষড়যন্ত্রের গন্ধ?
Truth of Bengal: রাত তখন এগারোটা। সমুদ্রের নোনা হাওয়ার মাঝেই হঠাৎ হিজলি সৈকতে জেগে উঠল আগুনের লেলিহান শিখা। চোখের নিমেষে হিজলি মসনদ-ই-আলা সংলগ্ন পিকনিক স্পটের অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি অস্থায়ী দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেল। শনিবার রাতে খেজুরির এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এখন একদিকে যেমন নিঃস্ব ব্যবসায়ীদের হাহাকার শোনা যাচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
সমুদ্রের হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ল আগুন
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাত এগারোটা নাগাদ প্রথম আগুনের শিখা নজরে আসে। সমুদ্র সৈকতের ধারে থাকা অস্থায়ী দোকানগুলি শুকনো কাঠ ও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তার ওপর সমুদ্রের ঝোড়ো হাওয়ায় আগুনের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর কাজে হাত দিলেও দমকল আসার আগে সবটাই প্রায় পুড়ে খাক হয়ে যায়। দমকলের কর্মীরা দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিষেকের তোপ: “বিজেপির গুন্ডাদের কাজ”
এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে মুহূর্তেই। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘এক্স’ (টুইটার) হ্যান্ডেলে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে পোস্ট করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে বিজেপির গুন্ডারাই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি।
Is this how you plan to drive “Bhoi” out? By setting Bengal on fire?
What unfolded in Khejuri’s Nichkasba GP, Hijli Sharif is nothing short of barbaric.
Over 60 shops were torched by BJP-backed miscreants, destroying the livelihoods of innocent people overnight. Hindu-owned… pic.twitter.com/k9xHsjDtHa
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) May 10, 2026
বিজেপির পাল্টা জবাব: “শর্ট সার্কিট থেকেই বিপর্যয়”
রবিবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান খেজুরির বিজেপি বিধায়ক সুব্রত পাইক। তিনি অভিষেকের অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপত্তি। বিজেপি কখনও এই ধরণের নোংরা রাজনীতি করে না।” বিধায়ক আরও যোগ করেন, “আমি পুলিশকে স্পষ্ট বলেছি, তদন্ত হোক। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে থাকে, তবে তাঁর দলের রং না দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কোনও অপরাধীকে রেয়াত করা চলবে না।”
পুলিশ ও দমকলের প্রাথমিক অনুমান, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড। তবে কোনও নাশকতার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে খেজুরি থানার পুলিশ। সহায় সম্বল হারিয়ে এখন মাথায় হাত হিজলি সৈকতের কয়েক ডজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর।





