তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চিনের সহায়তা চাইছে বাংলাদেশ
সূত্রের খবর, এই সফরে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
Truth of Bengal: তিস্তা নদীর সেচ ও নদী সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়নে চিনের সহযোগিতা চাইছে বাংলাদেশ। এই লক্ষ্যে বেজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ঢাকা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার আড়াই মাসের মাথায় প্রথমবার চিন সফরে গিয়ে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। চিন সফরে দু’দেশের আলোচনায় তিস্তা প্রকল্পকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, এই সফরে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দু’দেশ নিজেদের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য ‘পাঁচটি নীতি’ বজায় রাখা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও সম্মত হয়েছে ঢাকা ও বেজিং। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তিস্তা প্রকল্প। বাংলাদেশের পরিকল্পিত প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টরেশন অফ তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’। জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে সমীক্ষার মাধ্যমে এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালে এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্টও প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্প অনুযায়ী, তিস্তা নদীর প্রায় ১০২ কিলোমিটার অংশ খনন করে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি নদীর দু’পাশে মোট ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধ ও জল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং নদীর সামগ্রিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার মতো একাধিক কাজ এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
উল্লেখ্য, আওয়ামি লিগ সরকারের সময় থেকেই তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহী ছিল চিন। তবে শেখ হাসিনার সরকার তিস্তা মহাসেচ পরিকল্পনার দায়িত্ব ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি ক্ষমতায় আসতেই সেই পরিকল্পনায় বড়সড় বদল আসছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বহমান ৫৬টি নদীর মধ্যে তিস্তা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এই নদী উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপির একাধিক প্রতিনিধি দল বেজিং সফরে গিয়ে তিস্তা প্রকল্প চিনকে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল বলে অভিযোগ। একই দাবি উঠেছিল বাংলাদেশের সংসদে বিরোধী পক্ষ জামায়াতে ইসলামির তরফেও। এবার বৃহস্পতিবার বেজিঙে বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের উপস্থিতিতে সরকারি পর্যায়েই চিনকে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের এই নতুন কূটনৈতিক অবস্থান ভারতের জন্যও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে তিস্তা ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।






