প্রতিজ্ঞা পূরণ! ৫ বছর পর দাড়ি কামালেন আচ্ছেলাল, কল্যাণ-পুত্রর হারে ‘দম্ভ’ ভাঙার উৎসব কোন্নগরে
সাংসদ পুত্রের হারে প্রতিজ্ঞা পূরণ! ৫ বছর পর দাড়ি কামিয়ে সেলিব্রেশন আচ্ছেলাল যাদবের
রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: রাজনীতির ময়দানে লড়াইটা ছিল ব্যক্তিগত সম্মানের। আর সেই লড়াইয়ে জেতার পর ৫ বছরের ‘দাড়ি রাখার’ প্রতিজ্ঞা ভাঙলেন কোন্নগর কানাইপুরের দাপুটে নেতা আচ্ছেলাল যাদব। রবিবার কোন্নগরে ঘটা করে নাপিত ডেকে প্রায় এক ফুট লম্বা দাড়ি কামিয়ে ফেললেন তিনি। কারণ? শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়।
অপমানের সেই দিন ও দাড়ি রাখার শপথ
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। উত্তরপাড়ার এক কর্মীসভায় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূল নেতা তথা কানাইপুর পঞ্চায়েতের প্রধান আচ্ছেলাল যাদব। অভিযোগ, ভরা সভায় কর্মীদের অপমান করেছিলেন সাংসদ। সেই সময় লোকসভা ও বিধানসভায় কানাইপুর এলাকায় দলের খারাপ ফলের জন্য আচ্ছেলালকে কড়া ভাষায় বিঁধেছিলেন কল্যাণ। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে আচ্ছেলাল মনে মনে শপথ নিয়েছিলেন, যেদিন সাংসদকে যোগ্য জবাব দিতে পারবেন, তাঁর দম্ভ ভাঙবে, সেদিনই তিনি দাড়ি কামাবেন। ২০২১ সাল থেকে বাড়তে থাকা সেই দাড়ি আজ ফুট খানেক লম্বা হয়েছিল।
ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ ও মোক্ষম চাল
উত্তরপাড়ায় তৃণমূল যখন সাংসদ পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে টিকিট দেয়, ঠিক তখনই মোক্ষম চালটি চালেন আচ্ছেলাল। তৃণমূল ছেড়ে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। কোন্নগর-উত্তরপাড়ার রাজনীতিতে আচ্ছেলালের প্রভাব কতটা, তা প্রমাণিত হলো নির্বাচনের ফলে। বিজেপির দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হলেন শীর্ষণ্য। আর এই হারকেই কল্যাণের দম্ভের পতন হিসেবে দেখছেন আচ্ছেলাল।
তৃণমূল নেতাদের উপস্থিতিতে দাড়ি কামানো
আচ্ছেলাল এখন বিজেপিতে থাকলেও, এদিন তাঁর দাড়ি কামানোর সময় পাশে দেখা গেল কোন্নগরের অনেক তৃণমূল নেতাকে। যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, আচ্ছেলালের ভাই দিলীপ যাদব এখনও তৃণমূলে এবং উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান। ২০২১-এ তিনি পুরশুড়া থেকে হারলেও দাপট বজায় রেখেছেন।
দাড়ি কামানোর পর আচ্ছেলাল বলেন, “সাংসদ ভেবেছিলেন উনি অজেয়। আজ মানুষ তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছে দম্ভের জায়গা নেই। আমার প্রতিজ্ঞা ছিল ওঁকে রাজনৈতিকভাবে জবাব দেওয়া, আজ তা পূর্ণ হল।” ৫ বছরের সেই দীর্ঘ দাড়ি আজ ধুলোয় মিশল, কিন্তু উত্তরপাড়া-কোন্নগরের রাজনীতিতে এই লড়াইয়ের রেশ যে অনেকদিন থাকবে, তা নিশ্চিত।






