রাজ্যের খবর

“রাহুলের পায়ে পড়তে হবে মমতাকে!”, তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষে বিঁধলেন অধীর

“মমতা এখন বাঁচাও বাঁচাও বলছেন!”, রাহুলের কাছে হাতজোড়ের ভবিষ্যৎবাণী অধীরের

Truth of Bengal: একদিকে যখন ব্রিগেডের রাজকীয় মঞ্চে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তখনই কালীঘাটের অন্দর থেকে আসা এক ‘জোটের ডাক’ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে মহাযুদ্ধ। বিজেপিকে রুখতে বাম, অতিবাম এবং বিরোধী দলগুলিকে এক ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই আহ্বানকে ঘিরেই এবার কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর স্পষ্ট ভবিষ্যৎবাণী, “আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করে দাঁড়াতে হবে।”

“বিড়াল গাছে ওঠার” কটাক্ষ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাম-অতিবামদের সাহায্যের আর্জির প্রেক্ষিতে অধীর মনে করিয়ে দিয়েছেন পুরনো দিনের কথা। তিনি বলেন, “রাজ্যে বামেদের তাড়ানোর সময় মমতা নকশালদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। পরে তিনিই কিষানজিকে হত্যা করান। এখন যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে, তখন বাঁচাও বাঁচাও বলে সবাইকে ডাকছেন। হুঁকে পড়লে বিড়াল যেমন গাছে ওঠে, মমতার অবস্থাও এখন ঠিক তেমন।”

৪টে থেকে ৬টা: কে আসছেন মমতার দরবারে?

তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি অফিসে থাকবেন এবং কেউ জোট নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে আসতে পারেন। এই প্রসঙ্গে বিদ্রূপের সুরে অধীর বলেন, “আমি দেখতে চাই বিকেল ৪টে থেকে ৬টার মধ্যে কে কে মমতার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। উনি কার কার জন্য দরজায় খিল খুলে বসে আছেন, সেটা এখন দেখার বিষয়।”

অভিষেকের বাড়ি এখন ‘মিউজিয়াম’

এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি অধীর। তিনি বিদ্রুপ করে বলেন, “অভিষেকের বাড়ি তো এখন মিউজিয়ামে পরিণত হয়েছে। মানুষ লাইন দিয়ে তাঁর বাড়ি দেখতে যাচ্ছেন। এরপর মমতার বাড়িটাও একই ভাবে মিউজিয়ামে পরিণত হবে।”

বিজেপিকেও সতর্কবার্তা

তৃণমূলকে উৎখাত করার জন্য বিজেপিকে শুভেচ্ছা জানালেও, পদ্ম শিবিরকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অধীর। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেগুলি পালন না করলে তৃণমূল সরকারের মতো তাদেরও উৎখাত করতে সময় নেবে না জনতা। তবে সব ছাপিয়ে মমতার জোট প্রস্তাবকে অধীর যেভাবে ‘অসহায় আত্মসমর্পণ’ হিসেবে তুলে ধরলেন, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।

Related Articles