স্লোভাকিয়ায় রাজকীয় অভ্যর্থনা! ঐতিহ্য মেনে রুটি-লবণ দিয়ে বরণ করা হল মোদিকে
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সফরের মূল লক্ষ্য হল ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
Truth of Bengal: ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় ধাপে সোমবার স্লোভাকিয়ায় পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৯৩ সালে চেকোস্লোভাকিয়া ভেঙে স্লোভাকিয়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর এই প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর পা পড়ল সেখানে। দেশটির রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় প্রধানমন্ত্রীর বিমান অবতরণের পর তাঁকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার। সেখানে সে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রুটি এবং লবণের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। এই ঐতিহাসিক ও দ্বিপাক্ষিক সফরে সে দেশের প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি এবং প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন মোদি। এর পাশাপাশি স্লোভাকিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতিদের সঙ্গেও একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সফরের মূল লক্ষ্য হল ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল শিল্প, রেল উৎপাদন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির (অ্যাডভান্সড টেকনোলজি) মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা। স্লোভাকিয়ার মাটিতে পা রাখার পরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এই সফর ভারত-স্লোভাকিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। দুই দেশই একে অপরের সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। আমি প্রেসিডেন্ট পেলেগ্রিনি এবং প্রধানমন্ত্রী ফিকোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য অধীর আগ্রহে মুখিয়ে রয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফর প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সূত্র ধরেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালে স্লোভাকিয়া সফরে গিয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি। এই ধারাবাহিকতার পর মোদির বর্তমান স্লোভাকিয়া সফরকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করার এক মস্ত বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, চেকোস্লোভাকিয়ার বিলুপ্তির পর ১৯৯৩ সালেই দুই দেশের মধ্যে প্রথম কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। সেই বছরই স্লোভাকিয়া নয়াদিল্লিতে তাদের দূতাবাস খোলে এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালের আগস্ট মাসে ভারতও ব্রাতিস্লাভায় নিজস্ব দূতাবাস স্থাপন করে। এবার সেই দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে চলেছে দুই দেশ। স্লোভাকিয়া সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি আগামী ১৬-১৭ জুন এভিয়ানে আয়োজিত হতে চলা জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে রওনা হবেন। এরপর ১৮ জুন প্যারিসে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।






