দেশ

চুলের দৈর্ঘ্য ৯ ফুট, গিনেস বুকে নাম উঠল উত্তরাখণ্ডের মেয়ে রেণুর

২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তরাখণ্ডের হালদোয়ানিতে রেণুর চুলের দৈর্ঘ্য মাপা হয়।

Truth of Bengal: রূপকথার রাপুনজেলের গল্প এত দিন শুধু বইয়ের পাতাতেই পড়া হয়েছে। দুর্গের জানলা থেকে চুলের ঢেউ নামিয়ে দিলে তা নেমে যেত মাটি পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবেও যেন সেই রূপকথারই ছায়া। উত্তরাখণ্ডের রেণু ধরিয়ালের চুলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ ফুট! তাঁর দীর্ঘ কেশরাশির জন্যই এবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছে তাঁর।

২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তরাখণ্ডের হালদোয়ানিতে রেণুর চুলের দৈর্ঘ্য মাপা হয়। সেই মাপ অনুযায়ী তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য ২৭১.৫০ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ প্রায় ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি। এই অসাধারণ দৈর্ঘ্যের চুলের স্বীকৃতিই তাঁকে আন্তর্জাতিক রেকর্ডের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।

তবে এক দিনে এই সাফল্য আসেনি। রেণুর এই কেশরাশির নেপথ্যে রয়েছে প্রায় এক দশকের ধৈর্য, নিয়মিত পরিচর্যা এবং চুল না কাটার অভ্যাস। জানা গিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকেই তিনি বিশেষ ভাবে চুল বড় করার দিকে মন দেন। বছরের পর বছর চুল না কেটে এবং নিয়মিত যত্ন নিয়ে ধীরে ধীরে তাঁর চুল এতটাই লম্বা হয়ে ওঠে।

রেণুর এই রেকর্ড আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগে সবচেয়ে লম্বা চুলের অধিকারী মহিলার স্বীকৃতি ছিল ইউক্রেনের আলিয়া নাসিরোভার কাছে। ২০২৪ সালে তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য মাপা হয়েছিল ২৫৭.৩৩ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ ৮ ফুট ৫.৩ ইঞ্চি। রেণুর চুল সেই দৈর্ঘ্যের তুলনায় প্রায় ১৪ সেন্টিমিটার বেশি।

তবে শুধু চুল বাড়িয়ে ফেললেই তো হয় না, এত লম্বা চুল সুস্থ রাখা আরও বড় চ্যালেঞ্জ। রেণুর হেয়ারকেয়ারের তালিকায় রয়েছে মূলত প্রাকৃতিক ও ভেষজ উপাদান। আমলকী এবং অ্যালোভেরার মতো উপাদান তাঁর চুলের পরিচর্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে জানা গিয়েছে।

এত লম্বা চুলের পরিচর্যাও রীতিমতো সময়সাপেক্ষ। চুল ধোয়া থেকে শুকানো, আঁচড়ানো এবং সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা—প্রতিটি ধাপেই বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের কাঁধ ছোঁয়া চুল শুকাতেই যেখানে বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়, সেখানে রেণুর প্রায় ৯ ফুট লম্বা চুল সামলানো যে কতটা পরিশ্রমের, তা বলাই বাহুল্য। এমনকি চুল শুকানোর ক্ষেত্রেও তিনি হেয়ার ড্রায়ারের সাহায্য নেন না।

তবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠাই রেণুর প্রথম সাফল্য নয়। এর আগেও তাঁর দীর্ঘ কেশরাশি নজর কেড়েছে। ২০২০ সালে ‘উত্তরাখণ্ড বুক অফ রেকর্ডস’ এবং ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এ তাঁর নাম উঠেছিল বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়েও চুলের দৈর্ঘ্যের জন্য একাধিক স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধৈর্য ধরে চুলের যত্ন নেওয়ার ফল মিলল এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে। রূপকথার রাপুনজেলকে মনে করিয়ে দেওয়া সেই দীর্ঘ কেশরাশিই এখন উত্তরাখণ্ডের রেণু ধরিয়ালের পরিচয়ের অন্যতম কারণ।

 

Related Articles