রাজ্যের খবর

তোলাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ! গ্রেফতার নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে

শনিবার ভোরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দত্তপুকুরে অভিযান চালায় পুলিশ

Truth of Bengal: নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে-কে গ্রেফতার করল পুলিশ। তোলাবাজি, ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং মারধর-সহ একাধিক অভিযোগের তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। শনিবার ভোরে দত্তপুকুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এদিনই তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করার কথা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগেই সনৎ দে-র বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। তবে সেই সময় তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চলছিল। শনিবার ভোরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দত্তপুকুরে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে নৈহাটি থানায় নিয়ে আসা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর নৈহাটি এলাকায় হিংসা এবং মারধরের একাধিক ঘটনায় সনৎ দে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর মদতেই এলাকায় তোলাবাজি চলত বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নৈহাটিতে বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষের কয়েকটি ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাক্তন বিধায়ককে নৈহাটি থানায় নিয়ে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানার সামনে জড়ো হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। সনৎ দে-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি তাঁর কঠোর শাস্তির দাবিও তোলা হয়।

বিজেপির ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার কিসান মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেবার্ক ঘোষ অভিযোগ করেন, ভোট-পরবর্তী হিংসার সময় বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, বহু কর্মীকে সেই সময় বাড়িছাড়া হতে হয়েছিল। সনৎ দে-র বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির কঠোর তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রাক্তন শাসকদলের একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পুরনো অভিযোগ নতুন করে সামনে আসছে। তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগে ইতিমধ্যেই কয়েক জন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল নৈহাটির প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে-র নামও। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি এখনও বিচারাধীন এবং আদালতেই তার সত্যতা নির্ধারিত হবে।

Related Articles