ভবানী ভবনে সিআইডি তলবে সুমিত রায়! “সব রাস্তা ক্যামাক স্ট্রিটে গিয়ে থামবে,” বিস্ফোরক ঋতব্রত
এই জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে তদন্তের গতিপথ ক্যামাক স্ট্রিট পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে দাবি করলেন ‘আসল’ তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
Truth of Bengal: সিআইডি-র তলবে অবশেষে ভবানী ভবনে হাজির হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। শনিবার সকাল প্রায় ১০টা থেকে তাঁকে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। এই জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে তদন্তের গতিপথ ক্যামাক স্ট্রিট পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে দাবি করলেন ‘আসল’ তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, “যথাযথ তদন্ত হলে ‘অল রোডস লিড টু রোম’-এর মতো সব রাস্তা গিয়ে পৌঁছবে ক্যামাক স্ট্রিটে। এখন দেখার, সুমিত রায়ের কাছ থেকে তদন্তকারীরা কী কী তথ্য পান।” সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে দাবি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি শালবনির একটি জমি সংক্রান্ত প্রতারণা মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই সুমিতের অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তাঁর খোঁজে পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল বলে জানা যায়। পরে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে মেদিনীপুর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুকআউট নোটিস জারি করে। যদিও পরবর্তীতে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে কয়েকটি মামলায় আগাম জামিন পান সুমিত। এর মধ্যেই শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়িতে নতুন করে নোটিস পৌঁছে দেয় সিআইডি। সেই তলবে সাড়া দিয়ে শনিবার সকালে ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। এরপর থেকেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। সুমিতকে দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে না-দেখা যাওয়ায় এর আগে তাঁর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন ঋতব্রত। শনিবার সুমিতের হাজিরা নিয়ে তিনি বলেন, “অন্তর্ধান রহস্য অন্তত মিটল।”
তবে এখানেই থামেননি বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের বিভিন্ন সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুমিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। ঋতব্রতের দাবি, ৪ মে-র পর একবার সুমিত তাঁকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, “বস ফোন করতে বলেছেন।” তিনি পাল্টা জানতে চেয়েছিলেন, “কোন বস?” ঋতব্রতের আরও দাবি, বিভিন্ন নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও সুমিত সামলাতেন। টুলু মণ্ডলের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে তিনি শুনেছেন, এমনটাই দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা কী তথ্য পান, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ফের দাবি করেন, তদন্ত নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ হলে তার সূত্র শেষ পর্যন্ত ক্যামাক স্ট্রিট পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।





