যাদবপুর রেল স্টেশনে বিরাট চমক! ৩ হাজার বর্গমিটার জুড়ে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘মিনি মার্ট’
এই প্রকল্পের আওতায় একই ছাদের নীচে খুচরো দোকান, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়া যাবে
Truth of Bengal: যাদবপুর রেল স্টেশনকে আরও আধুনিক ও বহুমুখী পরিষেবা কেন্দ্রে পরিণত করতে বড় উদ্যোগ নিল পূর্ব রেল। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডের নেতৃত্বে স্টেশন চত্বরে ৩,০৪৫ বর্গমিটারেরও বেশি জায়গাজুড়ে একটি অত্যাধুনিক মিনি মার্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় একই ছাদের নীচে খুচরো দোকান, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়া যাবে। পূর্ব রেল সূত্রে খবর, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু স্টেশনের পরিকাঠামো ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকেও আরও সুবিধাজনক করে তোলা। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, প্রকল্পে ছোট বিক্রেতাদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট বাণিজ্যিক এলাকার অন্তত ৫০ শতাংশ ছোট দোকান, কিয়স্ক এবং স্টলের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রতিটি ছোট ইউনিটের সর্বোচ্চ আয়তন হবে ৮০ বর্গফুট। অন্যদিকে, সর্বাধিক ২৫ শতাংশ জায়গা বড় খুচরো দোকানের জন্য ব্যবহার করা যাবে। যাত্রীদের স্বচ্ছন্দ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রকল্প এলাকায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জায়গা হাঁটার পথ, খোলা পরিসর এবং সৌন্দর্যায়নের জন্য রাখা হবে। পাশাপাশি ৫ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা শৌচাগার, নির্দিষ্ট পার্কিং এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনসুবিধার জন্য বরাদ্দ করা হবে। রেলের দাবি, এই পরিকল্পনার ফলে স্টেশন চত্বরে আরও আরামদায়ক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হবে।
মিনি মার্টটির উন্নয়ন, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ১০ বছরের জন্য দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প থেকে পূর্ব রেলের নন-ফেয়ার রেভিনিউ বা টিকিট বহির্ভূত আয়ও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, যাদবপুর স্টেশনকে এমন একটি নাগরিক কেন্দ্রে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য, যেখানে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন—দুই দিকই সমান গুরুত্ব পাবে। আধুনিক স্টেশন পরিকাঠামোর পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বৈধ ও সহজলভ্য বাণিজ্যিক পরিসর তৈরি হলে স্থানীয় উদ্যোগও উৎসাহ পাবে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।






