আন্তর্জাতিক

উড়ানের ১২ মিনিটেই বিপর্যয়! কলম্বিয়ার সাংসদসহ ১৫ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু়

দুর্ঘটনার আগে বিমানটির এমার্জেন্সি বিকন বা বিপদসংকেতও সক্রিয় হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Truth Of Bengal: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় এক লড়াকু জনপ্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীসহ বিমানে থাকা ১৫ জন যাত্রীরই মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুরে কুকুতা থেকে ওকানা যাওয়ার পথে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। নিহতদের মধ্যে দেশটির হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য এবং শান্তি কমিশনের সভাপতি দিওজেনেস কিনতেরো রয়েছেন।

কলম্বিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ‘সাতেনা’র (Satena) বিচক্র্যাফট ১৯০০ মডেলের দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট টার্বোপ্রপ বিমানটি বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে ভেনেজুয়েলা সীমান্ত সংলগ্ন কুকুতা থেকে উড্ডয়ন করে। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু উড্ডয়নের মাত্র ১২ মিনিট পর অর্থাৎ ১১টা ৫৪ মিনিটে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আশ্চর্যজনকভাবে, দুর্ঘটনার আগে বিমানটির এমার্জেন্সি বিকন বা বিপদসংকেতও সক্রিয় হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কলম্বিয়ার রাজনীতির পরিচিত মুখ দিওজেনেস কিনতেরো। বিমানে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর পাশাপাশি আগামী মার্চে হতে চলা নির্বাচনে কংগ্রেস পদপ্রার্থী কার্লোস সালসেদোও ছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ফিউজেলেজ বা মূল কাঠামোটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়েছে, সেটি মূলত দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল এবং কোকা চাষের জন্য পরিচিত। এলাকাটি ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এবং ফার্ক (FARC)-এর বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সক্রিয় বিচরণক্ষেত্র হওয়ায় উদ্ধারকাজে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

নিহত দিওজেনেস কিনতেরো কেবল একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের শিকার মানুষদের প্রতিনিধি। ২০২২ সালে তিনি উত্তর সান্তানদারের কাতাতুম্বো অঞ্চল থেকে হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হন। কলম্বিয়ার শান্তি চুক্তির আওতায় সংঘাতকবলিত এলাকার ভুক্তভোগীদের জন্য সংরক্ষিত ১৬টি ‘পিস সিট’-এর একটিতে তিনি জয়ী হয়েছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি প্রতিনিধি সভার শান্তি কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে কলম্বিয়ার অ্যারোস্পেস ফোর্স এবং বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

Related Articles