৮০ বিধায়কের মধ্যে এলেন মাত্র ২০ জন, ‘কোরাম’ না হওয়ায় বাতিল খোদ মমতার বৈঠক
সবাই ব্যস্ত, তাই পিছিয়েছে!” কুণাল ঘোষ সাফাই দিলেও ২০ জন বিধায়ক কেন পৌঁছলেন মমতার বাড়ি?
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার বিকেলে কালীঘাটে খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ডাকা তৃণমূল পরিষদীয় দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করে দিতে হল। বিধানসভায় তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক সংখ্যা ৮০ হলেও, এদিনের হাইপ্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন মাত্র ২০ জন বিধায়ক। নিয়মানুযায়ী বৈঠকের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সদস্য বা ‘কোরাম’ পূর্ণ না হওয়ায় শেষ মুহূর্তে বৈঠকটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
গুরুত্ব বাড়াতে ডাকা হয়েছিল মমতার বাড়িতে, তাও এই হাল!
দলীয় সূত্রে খবর, বিধায়কদের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমন্বয় ও জনসংযোগ বাড়াতে রবিবার বিকেল ৪টেয় এই বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল পরিষদীয় দলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বালিগঞ্জের এই প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক নিজে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বৈঠকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, যাতে আলোচনার গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। কিন্তু রবিবার বিকেলে কালীঘাটের চেনা ভিড় উধাও হয়ে যায়। মাত্র ২০ জন বিধায়ক আসায় দলের অন্দরের ফাটল কার্যত প্রকাশ্য রাস্তায় চলে আসে।
যদিও এই নজিরবিহীন ভরাডুবি ও অস্বস্তি ঢাকতে তড়িঘড়ি আসরে নামেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, “শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা এবং রবিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পর বিধায়কেরা নিজ নিজ এলাকায় নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত রয়েছেন। তা ছাড়া দিকে দিকে কর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারি চলছে। তাই বিধায়কদের অনুরোধেই গতকাল সন্ধ্যায় বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই কারণেই বিধায়কেরা আজ আসেননি।”
কুণালের দাবি বনাম ২০ বিধায়কের উপস্থিতি, উথালপাথাল রাজনীতি
কুণাল ঘোষ বৈঠক আগেই বাতিল হওয়ার তত্ত্ব খাড়া করলেও, পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদি বৈঠক আগেই বাতিল হয়ে থাকে, তবে কেন প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র, পলাশিপাড়ার রুকবানুর রহমান, বজবজের অশোক দেব, পাঁচলার গুলশন মল্লিক কিংবা মালতীপুরের আবদুল রহিম বক্সির মতো হেভিওয়েট ২০ জন বিধায়ক কালীঘাটে হাজির হলেন? তাঁদের কি তবে দল থেকে কোনও আগাম বার্তা দেওয়া হয়নি?
ফোন বন্ধ করে উধাও কলকাতার বিধায়কেরা, তীব্র জল্পনা
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, উত্তর কলকাতার এন্টালি থেকে নির্বাচিত বিধায়ক সন্দীপন সাহা এদিনের বৈঠকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। একই ছবি দেখা গিয়েছে কসবার দাপুটে বিধায়ক জাভেদ খানের ক্ষেত্রেও। তাঁকে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। এমনকী, ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আবদুল খালেক মোল্লাও বৈঠকে আসেননি এবং তাঁর ফোনও সুইচড অফ ছিল।
পর পর দু’দিনে অভিষেক ও কল্যাণের ওপর প্রকাশ্য রাস্তায় হামলার পর তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের একটা বড় অংশ যেভাবে মমতার বৈঠক এড়িয়ে ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দিলেন, তা ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে কোনও বড়সড় ভাঙন বা বিদ্রোহের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়েই এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।






