আন্তর্জাতিক

নেদারল্যান্ডসে গিয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের সামনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে জয়ের কাহিনী শোনালেন মোদি

শনিবার সেখানে ‘দ্য হেগ’ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

Truth of Bengal: ভোটের প্রচারে বাংলার ঝাড়গ্রামে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। সেই সময় রসিকতা করে বলেছিলেন, “ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, আর ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।” এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর সুদূর ইউরোপের মাটিতে পা রেখেও সেই বিখ্যাত ঝালমুড়ির গল্প শোনালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী এখন পৌঁছেছেন নেদারল্যান্ডসে। শনিবার সেখানে ‘দ্য হেগ’ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানে প্রবাসী বাঙালিদের উচ্ছ্বাস ও হর্ষধ্বনি দেখে প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার সুরে বলে ওঠেন, “ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে নাকি!” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য শোনার পর হলঘরে উপস্থিত প্রবাসী ভারতীয়দের হাততালি ও উল্লাস আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

এ দিনের অনুষ্ঠানে প্রবাসী ভারতীয়দের মুখোমুখি হয়ে পাঁচ রাজ্যের ভোট এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে মুখ খোলেন মোদী। তিনি বলেন, “যখন দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন সত্যি হয়, তখন গণতন্ত্রের উপর তাঁদের ভরসা ও বিশ্বাস আরও মজবুত হয়।” এই প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনগুলির ফলাফল ও বিপুল জনসমর্থনের কথা উল্লেখ করতেই চারদিক থেকে জয়ধ্বনি ভেসে আসে। প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে বিপুল ভোটদানের হারের কথাও তুলে ধরেন। তিনি প্রবাসীদের জানান, সব রাজ্যেই এবার রেকর্ড ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে, যার মধ্যে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আর এই গণতান্ত্রিক সাফল্যের খতিয়ান দিতে গিয়েই অবধারিতভাবে চলে আসে বাংলার ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ।

স্মরণ করা যেতে পারে, গত এপ্রিল মাসে ভোট প্রচারের হাই-ভোল্টেজ পর্বে ঝাড়গ্রামে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সভা শেষ করে যখন তাঁর কনভয় হেলিপ্যাডের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই কলেজ মোড়ের কাছে হঠাৎ গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন তিনি। গাড়ি থেকে নেমে সোজা হেঁটে যান রাস্তার ধারের একটি ঝালমুড়ির দোকানে। সেখানে ১০ টাকা দিয়ে ঝালমুড়ি কিনে সাধারণ মানুষের মতোই তা চেখে দেখেন। সেই সময় বিক্রেতা যখন জানতে চান তিনি ঝাল বা পেঁয়াজ খাবেন কি না, তখন হাসিমুখে মোদী জবাব দিয়েছিলেন, তিনি ঝাল ও পেঁয়াজ সবই খান, “সির্‌ফ দিমাগ নেহি খাতা হুঁ”।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে সে সময় রাজ্য রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে সস্তা ‘নোটনক’ বা রাজনৈতিক নাটক বলে তীব্র কটাক্ষ করেছিল। তবে মোদীও পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি। এর পরের এক জনসভায় এসে তিনি বলেছিলেন, “আমার ঝালমুড়ি খাওয়া কিছু মানুষকে খুব জোরে ধাক্কা দিয়েছে। ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের।” এমনকি বাংলা জয়ের পর মিষ্টির পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে ঝালমুড়ি বিতরণ করা হবে বলেও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। নির্বাচন মেটার পর সত্যিই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীদের ঝালমুড়ি বিলি করতে দেখা গিয়েছে। এবার সেই ঘরোয়া ঝালমুড়ির স্বাদ ও রাজনীতির গল্প বিশ্বমঞ্চেও পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ৬ দিনের এই মেগা বিদেশ সফরে আমিরশাহি ও নেদারল্যান্ডস পর্ব চুকিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী গন্তব্য নরওয়ে, সুইডেন এবং ইতালি।

Related Articles