রাজ্যের খবর

সোনারপুরে আক্রান্ত হতেই অভিষেকের পাশে রাহুল-অখিলেশ, পাল্টা সৌজন্যে জোট মজবুত করছে তৃণমূল

সোনারপুরে ডিম-বৃষ্টির পরেই রাতারাতি একজোট ইন্ডিয়া ফ্রন্ট! রাহুল গান্ধীকে আবেগঘন বার্তা ‘সেনাপতি’র

Truth of Bengal: রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলে কিছু হয় না, এই বহু পুরনো প্রবাদটিই ফের একবার প্রমাণিত হল বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর। দল যখন রাজ্যের ক্ষমতায় ছিল, তখন দিল্লির বুক চিতিয়ে কংগ্রেস কিংবা ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের অন্যান্য শরিকদের পাত্তাই দিত না তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর যখন সাংসদ পদ খারিজ হয়েছিল বা তাঁকে সরকারি বাংলো ছাড়তে হয়েছিল, তখনও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সেভাবে সরব হতে দেখা যায়নি। কিন্তু ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূলের ভরাডুবির পর বদলে গিয়েছে গোটা সমীকরণ। দলের এই চরম দুঃসময়ে পুরনো তিক্ততা ভুলে তৃণমূলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা। আর এবার তাঁদের পাল্টা সৌজন্য ও ধন্যবাদ জানালেন আক্রান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোনারপুরের কামড়াবাদে নজিরবিহীন হেনস্থা

শনিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরের কামরাবাঁধে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নজিরবিহীন গণরোষের মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কামালগাজির কাছে প্রথমে তাঁকে কালো পতাকা দেখান স্থানীয় মহিলারা। এরপর সোনারপুরে ঢুকতেই তাঁকে লক্ষ্য করে দেদার ডিম ও ইটের টুকরো ছোঁড়া হয়, ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। ডিমের আঘাতে অভিষেকের পোশাক নোংরা হয়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমে এক কর্মীর বাইকে চড়ে এগোনোর চেষ্টা করলে সেখানেও বিক্ষোভ হয়। মাথায় হেলমেট থাকায় ছোঁড়া ডিম এসে পড়ে হেলমেটের ওপর।

রাহুল-অখিলেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবেগঘন পোস্ট অভিষেকের

অভিষেকের ওপর এই হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শনিবার রাত থেকে জাতীয় স্তরের ইন্ডিয়া জোটের নেতারা কড়া প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেন। মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেন এবং ডি রাজার মতো হেভিওয়েট নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন।

রবিবার সকালে এই সমস্ত জাতীয় নেতাদের পাল্টা ধন্যবাদ জানান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, “এভাবে সর্বদা আমার পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ রাহুলজি। ভারতের আত্মাকে রক্ষা করতে আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাঁচাতে আমরা একজোট।” তিনি আরও দাবি করেন, “গত বছর এই সময় আমি বিশ্বমঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলাম, আজ আমি নিজেই রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার।” সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে জবাব দিতে গিয়ে অভিষেক লেখেন, “ওরা যদি ভেবে থাকে মারধর করে আমাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া যাবে, তবে ওরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে।”

জাতীয় স্তরে ‘ফ্রি বার্ড’ মমতার নতুন চাল?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় স্তরে নিজেকে ‘ফ্রি বার্ড’ বা স্বাধীন পাখি হিসেবে তুলে ধরে ইন্ডিয়া জোটকে এককাট্টা করার বার্তা দিয়েছিলেন। লক্ষ্য একটাই—রাজ্যের ক্ষমতা হারালেও জাতীয় স্তরে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখা। এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের মধ্যে যে অভূতপূর্ব একতা দেখা গেল, তা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

Related Articles