দেশ

অজিতহীন এনসিপি কি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে? এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

কাকা শরদ পওয়ারের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে তিনি সবে নিজেকে স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন।

Truth Of Bengal: অজিত ‘দাদা’র হঠাৎ মৃত্যুর পর এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নের ঘুর্ণিঝড় উঠেছে। কোনো আঞ্চলিক দলের জন্য প্রতিষ্ঠাতা বা তাঁর সুস্পষ্ট উত্তরাধিকারী থাকা জরুরি। কারণ সেটাই দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। অতীতে বহু রাজনৈতিক দলের অবক্ষয় বা অবলুপ্তি এই তত্ত্বই প্রমাণ করেছে। তাই অজিতের প্রয়াণের পর থেকেই এনসিপির অস্তিত্ব বাঁচানো যাবে কি না, এই প্রশ্নই সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠছে।

কারণ মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত অজিত রাজনীতির কেন্দ্রে ছিলেন। কাকা শরদ পওয়ারের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে তিনি সবে নিজেকে স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন। নিজস্ব পরিচয় তৈরি করছিলেন। কিন্তু সমস্যা হল, নিজের উত্তরসূরি হিসেবে কাউকে এখনো তিনি গড়ে তুলতে পারেননি। বলা ভালো, এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর পরিকল্পনাই করেননি। তাই তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের পর উত্তরসূরি বাছাই অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কারণ শুধু দল চালানোই নয়, সরকারের প্রতিনিধিত্ব, উপমুখ্যমন্ত্রী পদ কিংবা অজিতের হাতে থাকা মন্ত্রক—সবকিছুর ভাগবাটোয়ারা করতে হবে। ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, ‘দাদা’র জায়গাটা নেবেন কে? এনসিপির নতুন নেতাকে বা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে কারা বসবেন? এই লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা। স্বামীর মৃত্যু পর দলকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সহমর্মিতা। প্রাথমিকভাবে দলের ভাঙন রোধ করতে সুনেত্রা বা পওয়ার পরিবারের কাউকেই নেতৃত্ব নিতে হবে—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তবে সমস্যা হল, সুনেত্রা রাজনীতিতে এখনও শিক্ষানবিশ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি নিজেরই ননদ সুপ্রিয়া সূলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু হেরে গিয়েছিলেন। এরপর অজিত তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠান। তাতেও তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা খুবই কম। তাই সুনেত্রা আদৌ দল ও সরকার সামলাতে পারবেন কি না, সেই নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

অজিতের বড় ছেলে পার্থ পওয়ারও বাবার উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন। কিন্তু তিনি-ও রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পার্থ শিব সেনার কাছে হেরে যান এবং তারপর সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি তাকে। সম্প্রতি এক কেলেঙ্কারিতে তাঁর নাম জড়িয়েছে—যা তাঁর নেতৃত্বর সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করেছে। একই সমস্যা অজিতের ছোট ছেলে জয় পওয়ারের ক্ষেত্রেও। তিনি কখনও সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না, জনসাধারণের সামনে তেমন পরিচিতও নন। তাই তাঁর সম্ভাবনাও কমই মনে হচ্ছে।

পরিবারের বাইরে দলকে চালানোর মতো দু’জন প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন। একজন প্রফুল্ল প্যাটেল, যিনি মহারাষ্ট্র ও দিল্লির রাজনীতিতে পরিচিত নাম এবং একাধিকবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছেন। অজিতের অনুপস্থিতিতে দলের হাল ধরার দিক থেকে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে। কিন্তু দলের কর্মী বা সমর্থকদের মধ্যে তিনি ততটা জনপ্রিয় নন। অন্যদিকে বর্ষীয়ান নেতা সুনীল ততকারে দলের দায়িত্ব নিতে পারেন, তবে তাঁরও অজিতের মতো জনপ্রিয়তা নেই।

এই পরিস্থিতিতে এনসিপি নেতাদের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হতে পারেন বৃদ্ধ শরদ পওয়ার। নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে ফের যদি তাঁরা মারাঠা স্ট্রংম্যানের দ্বারস্থ হন, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ দলের অস্থিতিশীল সময়গুলোতে আবারও পওয়ার পরিবারের ‘স্ট্রংম্যান’ কাঁধে তুলে নিলেই এনসিপি হয়তো নিজেদের শক্তি পুনরায় জমাতে পারবে।

Related Articles