আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ ফোনালাপে ‘ঝগড়া’ দুই রাষ্ট্রনেতার, ইরান সংঘর্ষ নিয়ে মতবিরোধ ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর

আমেরিকা যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পক্ষপাতী

Truth of Bengal: ইরানকে ঘিরে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে না হলেও তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-র মধ্যে। আমেরিকা যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পক্ষপাতী, সেখানে ইজরায়েল চাইছে ইরানের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ।

সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু আচমকাই সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখার ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এরপর মঙ্গলবার ফোনে কথা হয় ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর। প্রায় এক ঘণ্টার ওই কথোপকথনের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে নেতানিয়াহু ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলেও মন্তব্য করেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষে আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে ঘন ঘন উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল। ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও একাধিকবার মতবিনিময় হয়েছে। গত রবিবারও ফোনে কথা বলেন দুই রাষ্ট্রনেতা। কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে ট্রাম্পের এই অবস্থানের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা ট্রাম্পকে সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার পথে এগোনোর অনুরোধ জানান বলেই খবর। সেই অনুরোধ মেনেই আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই নীতিতে একেবারেই সন্তুষ্ট নন নেতানিয়াহু। শুরু থেকেই তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ইজরায়েলি সূত্রের দাবি, হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ইরানকেই সুবিধা করে দেবে বলে মনে করছেন নেতানিয়াহু। ফোনালাপে তিনি ট্রাম্পকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সামরিক অভিযান চালানোই উচিত ছিল আমেরিকার।

মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলির দাবি, নেতানিয়াহু চান ইরানের সামরিক পরিকাঠামো ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি দুর্বল করে দিতে। অন্যদিকে ট্রাম্প চাইছেন মধ্যস্থতাকারীদের সাহায্যে একটি বৃহত্তর চুক্তির পথে এগোতে। জানা গিয়েছে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ‘শ্বেতপত্র’ তৈরির পরিকল্পনা চলছে, যেখানে ওয়াশিংটন এবং তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে সম্মত হতে পারে। এরপর ৩০ দিনের একটি আলোচনা পর্বে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এই কৌশলে সায় দিচ্ছে না তেল আভিভ। ইজরায়েলি প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, ইরান সময় নষ্ট করার কৌশল নিচ্ছে এবং ট্রাম্প সেই সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে উদ্দেশ্যগত ফারাক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও অতীতেও একাধিকবার সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়ে শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এসেছেন ট্রাম্প, তবু ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন এবং তেল আভিভের সম্পর্কের এই টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।

Related Articles