কলকাতা

কল্যাণকে লক্ষ্য করে ঢিল ও ‘চোর’ স্লোগান! সাংসদদের ওপর হামলা নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট মমতার

বিজেপিকে সরাসরি ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী’ বলে তোপ দেগেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

Truth of Bengal: শনিবার সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবিবার হুগলির চণ্ডীতলায় শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর পরপর হামলার ঘটনায় এবার সরাসরি রণংদেহী মেজাজে ময়দানে নামলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুই হেভিওয়েট সাংসদের ওপর হওয়া নজিরবিহীন আক্রমণের নেপথ্যে সরাসরি বিজেপির পরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। বিজেপিকে সরাসরি ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী’ বলে তোপ দেগেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার সকালে চণ্ডীতলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা ফেটে যাওয়ার ঘটনার একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়। এর কিছু পরেই নিজের এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পোস্টে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দলের দুই শীর্ষ সংসদীয় পদাধিকারীর ওপর পরপর দু’দিন যে ধরনের আক্রমণ চালানো হলো, তা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। মমতার দাবি, “সোনারপুরে অভিষেকের ওপর বর্বরোচিত হামলার ভিডিও ইতিমধ্যেই সকলে দেখেছেন। আর রবিবার যেভাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তা ও মারধর করা হলো, তা থেকে পরিষ্কার যে এই সমস্ত কিছুই বিজেপির পূর্বপরিকল্পিত ব্লু-প্রিন্ট। এভাবেই তারা বাংলায় গণতন্ত্রকে হত্যা করছে।”

তৃণমূলনেত্রী শুধু যে রাজপথের হামলার ঘটনাতেই বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন, তা নয়। শনিবার রাতে আক্রান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার একাধিক নামী বেসরকারি হাসপাতাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর ভর্তি না নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাটিকেও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপির ভয় ও ‘অঙ্গুলিহেলন’-এর কারণেই চিকিৎসকেরা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিষেককে ভর্তি করার সাহস দেখাননি। এই প্রসঙ্গে মিন্টো পার্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালের ভিতরে গিয়ে সেখানকার সিইও (CEO)-কে মমতার তীব্র ভর্ৎসনা ও ক্ষোভ প্রকাশের একটি অডিও/ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর এই প্রথম তৃণমূলের দুই শীর্ষ সারির নেতার ওপর এমন প্রকাশ্য জনরোষ ও হামলার ঘটনা ঘটল। একদিকে দলের সাংসদদের ওপর শারীরিক নিগ্রহ এবং অন্যদিকে হাসপাতালের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর যে জোড়া অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলেছেন, তা ভোট-পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের তপ্ত রাজনীতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতকে আরও এক চরম রূপ দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

Related Articles