আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত! দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চুক্তির পর প্রণালী উন্মুক্ত করা হলেও এর কৌশলগত ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাদের হাতেই।

Truth of Bengal: ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায় পৌঁছে গিয়েছে এবং এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। রবিবার নিজের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডেল ‘ট্রুথ সোশাল’-এ একটি পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ আবার সব দেশের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের কথায়, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পথে এবং বর্তমানে এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে। তবে হোয়াইট হাউসের এই দাবি পুরোপুরি মেনে নেয়নি তেহরান। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চুক্তির পর প্রণালী উন্মুক্ত করা হলেও এর কৌশলগত ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাদের হাতেই। একই সঙ্গে ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অনেক অমিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে ইরান।

এই তীব্র আন্তর্জাতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানে এক আকস্মিক হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে। এর জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরান। শুধু তাই নয়, গত ৪ মার্চ তারা বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ঘোষণা করে হুঁশিয়ারি দেয় যে, অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ সেখানে প্রবেশ করলে আক্রমণ করা হবে। বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির প্রধান পথ হরমুজ অবরুদ্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিতে শুরু করে, যা ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যুদ্ধের আবহ কাটাতে বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় পাকিস্তান। তাদের উদ্যোগে ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার একটি ম্যারাথন শান্তিবৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার সেই আলোচনা কোনও রফাসূত্র ছাড়াই ব্যর্থ হয়। তবে হাল না ছেড়ে পাকিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ দ্বিতীয় দফায় শান্তি আলোচনা শুরু করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ওভাল অফিস থেকে তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-সহ একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ফোনে এই বৃহত্তর শান্তি সমঝোতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন। এখন দেখার, এই হাইভোল্টেজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরে কি না।

Related Articles