আন্তর্জাতিক

আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের সেই রুদ্ধশ্বাস ভিডিয়ো প্রকাশ্যে

মাঝ আকাশে দুটি যানের সংঘর্ষের পর দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে

Truth of Bengal: গত বছর আমেরিকার রোনাল্ড রেগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের আকাশে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের সেই ভয়াবহ মুহূর্তের নতুন ভিডিও ফুটেজ এবার প্রকাশ্যে এল। ‘৬০ মিনিটস’-এর পক্ষ থেকে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে মাঝ আকাশে দুটি যানের সংঘর্ষের পর দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে।

গত বছরের ২৯ জানুয়ারি ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর মধ্যে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিমানে থাকা ৬৪ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য এবং ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে থাকা ৩ জন সেনাসদস্য ছিলেন। জানা গেছে যে কানাড়া নির্মিত বোম্বার্ডিয়ার সিআরজে-৭০১ মডেলের ওই দুই ইঞ্জিনের যাত্রীবাহী বিমানটি কানসাসের উইচিটা থেকে আসছিল। পোটোম্যাক নদীর ওপর দিয়ে মাত্র ৪০০ ফুট উচ্চতায় এবং ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ মাইল বেগে ওড়ার সময় এই সংঘর্ষটি ঘটে।

দুর্ঘটনার দিন পিএটি২৫ কল সাইন বিশিষ্ট ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারটি বিমানবন্দরের নিকটবর্তী একটি সংরক্ষিত আকাশসীমায় রুটিন প্রশিক্ষণ চালাচ্ছিল। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিধিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দরের আশেপাশে হেলিকপ্টার চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক বিমানের পথ থেকে হেলিকপ্টারের রুট কিছুটা দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরিবহন সচিব শন ডাফি জানিয়েছেন যে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের জন্য ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে এফএএ প্রশাসক ব্রায়ান বেডফোর্ড এই সংঘর্ষকে নিরাপত্তা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার একটি কঠোর স্মারক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য যে ২০০১ সালের ১২ নভেম্বরের পর এটিই আমেরিকার ইতিহাসে মাঝ আকাশে ঘটে যাওয়া সবথেকে মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনা।

Related Articles