শান্তিচুক্তির আবহেই রণক্ষেত্র হরমুজ প্রণালী! আলোচনার মাঝেই হরমুজে সংঘাত
গত রবিবারই শান্তিচুক্তির রূপরেখা মেনে নিজেদের মজুত ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছিল তেহরান।
Truth of Bengal: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যখন সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছিল, ঠিক তখনই সেই জল্পনায় জল ঢেলে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি সই হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেই বিবৃতির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উলটো ছবি দেখল গোটা পৃথিবী। মঙ্গলবার ভোরে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরান রেভোলিউশনারি গার্ডের (IRGC) নৌকায় অতর্কিতে হামলা চালায় মার্কিন ফৌজ। এই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইতিমধ্যেই অন্তত চারজন ইরানি সেনার মৃত্যুর খবর মিলেছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম যুদ্ধকালীন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সামরিক প্রশাসনের তরফে এই হামলাকে সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষা’মূলক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, আইআরজিসির দু’টি নৌকা হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্রের তলদেশে মাইন পোঁতার কাজ করছিল, যা আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। মার্কিন সেনার নজরে এই বিষয়টি আসতেই তারা পালটা আক্রমণ শানায়। এখানেই শেষ নয়, মার্কিন প্রশাসনের আরও দাবি— ইরানের বান্দার আব্বাস বন্দর এলাকা থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছিল, যার জবাবে আমেরিকাও পালটা মিসাইল ছোড়ে। আপাতত আমেরিকার পক্ষ থেকে এই সামরিক অভিযান শেষ বলে জানানো হলেও, আকস্মিক এই সংঘাত শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থানকেই দায়ী করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। গত রবিবারই শান্তিচুক্তির রূপরেখা মেনে নিজেদের মজুত ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছিল তেহরান। যেখানে বিদেশসচিব রুবিও চুক্তি আসন্ন বলে ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনও চুক্তি করতে চান না, বরং সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে এগোতে চান। ট্রাম্পের এই দীর্ঘসূত্রতা এবং আলোচনার মাঝপথেই ইরানের ওপর এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল। হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প কড়া ভাষায় তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে, ইরানকে যে কোনও মূল্যে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতেই হবে।
অবশ্য মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, এই আকস্মিক সামরিক সংঘাতের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক শান্তি আলোচনার কোনও সম্পর্ক নেই। বর্তমানে পরিস্থিতি একদিকে যখন চরম উত্তেজনাপূর্ণ, অন্যদিকে তখন পূর্বনির্ধারিত শান্তি বৈঠকের জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাটিতে পা রেখেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে আদৌ কোনও শান্তিচুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে এই মুহূর্তে গোটা বিশ্ব গভীর সংশয়ে রয়েছে।






