কলকাতা

“রাস্তায় বেরোলেই গণধোলাই!”, অভিষেক-কল্যাণের পরিণতি দেখে মমতার বৈঠক বয়কটের পথে বহু তৃণমূল বিধায়ক

কালীঘাটে মমতার জরুরি বৈঠক বয়কট করছেন তৃণমূল বিধায়করাই? “বেরোলেই পাবলিকের মার খাব!” আতঙ্কে কাঁপছে ঘাসফুল

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর এবার আক্ষরিক অর্থেই অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবিবার সকালে চণ্ডীতলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর যেভাবে পর পর গণবিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে, তাতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দলের বাকি জয়ী বিধায়কদের মধ্যে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রবিবার বিকেল ৪টেয় কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বৈঠকে যোগ দিতেই অস্বীকার করছেন বহু বিধায়ক। তাঁদের স্পষ্ট আশঙ্কা, বাড়ি থেকে বেরোলেই রাস্তায় ক্ষুব্ধ আমজনতার রোষের মুখে পড়তে হবে তাঁদের। যার জেরে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে কতজন আজ কালীঘাটে পৌঁছবেন, তা নিয়ে খোদ শীর্ষ নেতৃত্বই চরম সংশয়ে রয়েছে।

২৫ জন এলেই ভাগ্য! ক্ষোভ ও আতঙ্কে কাঁটা হাওড়া-হুগলি

রাজনৈতিক মহলের খবর, দলের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে মনে দলনেত্রীর নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার সিংহভাগ বিধায়কই রবিবারের এই মেগা বৈঠক এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের একাংশের মতে, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে যদি শেষ পর্যন্ত ২৫ জনও কালীঘাটের বৈঠকে হাজির হন, সেটাই এখন অনেক বড় ব্যাপার।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, দলের দুই শীর্ষ সাংসদ আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানাতে গিয়েও দূরত্ব বজায় রাখছেন দলের একাংশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হেভিওয়েট বিধায়ক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সোনারপুরে অভিষেকের ওপর যা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। কিন্তু আজ দলের এই ভরাডুবি এবং এই পরিস্থিতির জন্য খোদ অভিষেকই দায়ী।” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহত হওয়া নিয়ে অন্য এক বিধায়কের চাঞ্চল্যকর মন্তব্য, “কল্যাণদার মাথায় ঢিল লাগাটা দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু উনি এতদিন যেভাবে বিরোধী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে রাস্তায় নেমে চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলেছেন, এটা তারই পাল্টা প্রতিফলন।”

“মিটিংয়ে যাওয়ার আগে হাসপাতালে যেতে হবে!”

আতঙ্কের আবহ এতটাই তীব্র যে, এক বিধায়ক সরাসরি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “চারপাশের যা পরিস্থিতি, বাড়ি থেকে বেরোলে কালীঘাট পৌঁছনোর আগেই পাবলিকের মার খেয়ে সোজা হাসপাতালে ভরতি হতে হবে। তাই বাবা, মিছিমিছি মিটিংয়ে গিয়ে কাজ নেই।” অন্য এক প্রবীণ বিধায়ক আভিজাত্য প্রকাশ করে বলেন, “আমি কোনওদিন কোনও ‘দাদা’ বা ‘বস’-এর পেছনে চামচাগিরি করতে দৌড়ইনি, কেক কাটার পার্টিতেও যাইনি। নিজের শিক্ষাদীক্ষা নিয়ে দল করেছি, আজও কোনো নেতার ভয়ে বৈঠকে যাব না।”

সই-জালিয়াতি ও সিআইডি-র ভয়

বর্তমানে বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০। নিয়মানুযায়ী প্রধান বিরোধী দলের তকমা ধরে রাখতে গেলে অন্তত ৩০ জন বিধায়ককে এককাট্টা রাখা আবশ্যিক। কিন্তু যেভাবে একের পর এক বিধায়ক দলীয় সুপ্রিমোর বৈঠক থেকে পিছু হটছেন এবং দলবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তাতে ঘাসফুল শিবিরের পরিষদীয় অস্তিত্বই এখন প্রশ্নের মুখে। এর ওপর যোগ হয়েছে ‘সই-জাল’ কাণ্ডে সিআইডি (CID)-র নোটিসের ভীতি। সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের অন্দরের এই বিদ্রোহ দলটিকে সম্পূর্ণ খণ্ডবিখণ্ড করে দেওয়ার দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Related Articles