‘অপারেশন সিন্দুর’ ছিল গেম-চেঞ্জার! পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেঙে ভারতের আধিপত্য, বলছে সুইস রিপোর্ট
৭ মে ভোরে বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকে-র মতো গভীরে থাকা জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার সদর দফতরে নিখুঁত হামলা চালায় ভারত।
Truth Of Bengal: গত বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘটা ৮৮ ঘণ্টার আকাশযুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক সমীকরণে আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। সুইজারল্যান্ডের ‘সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি অ্যান্ড পারসপেক্টিভ স্টাডিজ’ (CHPM)-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে একতরফা আধিপত্য কায়েম করেছিল, যার ফলেই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় ইসলামাবাদ।
২০২৫ সালের মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার জবাবে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে নয়াদিল্লি। সামরিক ঐতিহাসিক আদ্রিয়েন ফন্টানেল্লাজ-এর লেখা এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ হামলা রুখতে এবং কড়া বার্তা দিতে বায়ুসেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিল। ৭ মে ভোরে বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকে-র মতো গভীরে থাকা জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার সদর দফতরে নিখুঁত হামলা চালায় ভারত।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম রাতে পাকিস্তান সর্বশক্তি দিয়ে পাল্টা আক্রমণ করে। প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমানের এই লড়াইয়ে চীন-নির্মিত PL-15 মিসাইল ব্যবহার করে পাকিস্তান ভারতের একটি রাফাল এবং একটি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। একে ভারতের জন্য ‘সাময়িক কৌশলগত বিপত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ইসলামাবাদকে প্রচারমাধ্যমে প্রাথমিক সুবিধা দিয়েছিল।
তবে সুইস বিশ্লেষণের মূল দাবি হলো, এই প্রাথমিক ক্ষতি যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করেনি। বরং এর পরের তিন দিন ভারত যে ‘কাউন্টার-অফেন্সিভ’ শুরু করে, তা ছিল নজিরবিহীন। ভারত পরিকল্পিতভাবে- ব্রহ্মস ও স্কাল্প (SCALP-EG) মিসাইল ব্যবহার করে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ও সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেয়। এরপর পাকিস্তানের মূল বিমান ঘাঁটিগুলোর রানওয়ে ও পরিকাঠামোয় ‘অবিশ্বাস্য’ মাত্রায় নিখুঁত আঘাত হেনে পাকিস্তানের বায়ুসেনার ওড়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
সুইস থিঙ্ক ট্যাঙ্কটি ভারতের ‘আকাশতীর’ সিস্টেম এবং আকাশ, বারাক-৮ ও এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেমের সমন্বিত প্রতিরক্ষার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তাঁদের মতে, ভারতের এই নিশ্ছিদ্র আকাশ সুরক্ষা পাকিস্তানের পাল্টা আঘাতের চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়। ১০ মে নাগাদ ভারত কার্যত আকাশপথে নিরঙ্কুশ আধিপত্য অর্জন করে, যার ফলে পাকিস্তান পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এই রিপোর্টে উপসংহারে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন সিন্দুর’ কেবল একটি প্রতিশোধমূলক হামলা ছিল না; এটি ছিল ভারতের রণকৌশলের এক বড় বদল। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে জঙ্গি হামলার দায়ভার পাকিস্তান রাষ্ট্রের ওপরই বর্তাবে এবং তার জবাব হবে আরও দ্রুত ও শক্তিশালী। প্রাথমিক প্রচারে পাকিস্তান সফল হলেও, সামরিক গভীরতা ও দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের ক্ষমতায় ভারত যে অনেকটাই এগিয়ে, সুইস রিপোর্টে তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।






