দেশ

গঙ্গোত্রী থেকে কেদার-বদ্রী: উত্তরাখণ্ডের ৪৫টি মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার তোড়জোড়

আসন্ন বোর্ড বৈঠকে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হবে।

Truth Of Bengal: উত্তরাখণ্ডের শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে মন্দির কমিটিগুলো। গঙ্গোত্রী, বদ্রীনাথ এবং কেদারনাথসহ রাজ্যের ৪৫টি মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শ্রী গঙ্গোত্রী মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান সুরেশ সেমওয়াল জানিয়েছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী নন এমন ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার রোধে কড়া নজরদারি চালানো হবে।

বিজেপি নেতা তথা শ্রী কেদারনাথ-বদ্রীনাথ মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী এই সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জানান, উত্তরাখণ্ডের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পবিত্রতা রক্ষা করা তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর দাবি, ঐতিহাসিকভাবেই এই মন্দিরগুলিতে শুধুমাত্র হিন্দুদের প্রবেশের অনুমতি ছিল, যা পূর্ববর্তী অবিজেপি সরকারগুলোর আমলে অবহেলিত হয়েছে। আসন্ন বোর্ড বৈঠকে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হবে।

রাজ্য প্রশাসনও এই বিষয়ে নমনীয়। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামি জানিয়েছেন, মন্দির পরিচালন কমিটি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি যে সুপারিশ করবে, সরকার সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। উল্লেখ্য, ধামি সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে অবৈধ ধর্মীয় কাঠামো উচ্ছেদে সক্রিয় হয়েছে, যার প্রশংসা করেছে মন্দির কমিটিগুলো।

মন্দির কমিটির এই উদ্যোগকে ঘিরে উত্তরাখণ্ডে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি সূর্যকান্ত ধাসমানার দাবি, সাধারণ জনগনের দৃষ্টি মূল সমস্যা থেকে ঘুরিয়ে দিতেই সরকার ও মন্দির কমিটি এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাঁর মতে, এমনিতে অহিন্দুরা এই মন্দিরগুলোতে খুব একটা যান না, তাই আলাদা করে নিষেধাজ্ঞা জারির কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই।

বিতর্কের মাঝেই আসন্ন তীর্থযাত্রার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে। চামোলি জেলার বদ্রীনাথ মন্দিরের দরজা পুণ্যার্থীদের জন্য খুলছে আগামী ২৩ এপ্রিল। এর আগে ১৯ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিন খুলে দেওয়া হবে গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী মন্দিরের কপাট। তবে কেদারনাথ ধাম কবে খুলবে, তা আগামী শিবরাত্রির দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

Related Articles