দেশ

“হিন্দি অনেক ভাষাকে গ্রাস করেছে”, নির্বাচনের মুখে বিস্ফোরক অভিযোগ উদয়নিধি স্ট্যালিনের

একইসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কোনও অবস্থাতেই তামিলনাড়ু কেন্দ্রের ‘ত্রি-ভাষা নীতি’ মেনে নেবে না।

Truth Of Bengal: ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের আঞ্চলিক ভাষাগুলোকে ‘হিন্দি’ গ্রাস করে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন তামিলনাড়ুর উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন। ‘ভাষা শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, উত্তর ভারতের অনেক রাজ্যে হিন্দির আধিপত্যের কারণে সেখানকার মাতৃভাষাগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। একইসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কোনও অবস্থাতেই তামিলনাড়ু কেন্দ্রের ‘ত্রি-ভাষা নীতি’ মেনে নেবে না।

ষাটের দশকের হিন্দি-বিরোধী আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে উদয়নিধি বলেন, “আজ অনেক রাজ্যে তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা হারিয়ে গিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ— হরিয়ানার ভাষা হরিয়ানভি, বিহারের বিহারি, উত্তরপ্রদেশের ভোজপুরি বা ছত্তিশগড়ের ছত্তিশগড়ি ভাষা আজ হিন্দির দাপটে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। হিন্দি এমন একটি ভাষা যা অনেক আঞ্চলিক ভাষাকে গ্রাস করে নিয়েছে।” তিনি জানান, তামিল ভাষা ও সংস্কৃতিকে এই আগ্রাসন থেকে বাঁচাতেই মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান নিয়েছেন।

একই দিনে মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের’ অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সরাসরি হিন্দি চাপাতে ব্যর্থ হয়ে এখন জাতীয় শিক্ষানীতির মাধ্যমে স্কুল-কলেজে তা কার্যকর করার চেষ্টা হচ্ছে। ত্রি-ভাষা নীতি গ্রহণ না করায় কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তামিলনাড়ুর পাওনা ৩,৪৫৮ কোটি টাকা আটকে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। স্ট্যালিন বলেন, “টাকার বিনিময়ে বা হুমকির মুখে আমরা আত্মসমর্পণ করব না। ৩ হাজার হোক বা ১০ হাজার কোটি— তামিলনাড়ু নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে না।”

ডিএমকে সরকারের দাবি, গত কয়েক দশক ধরে তামিলনাড়ু যে দ্বি-ভাষা নীতি (তামিল ও ইংরেজি) অনুসরণ করছে, তা অত্যন্ত সফল। মাতৃভাষায় চিন্তা করা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগের জন্য ইংরেজি শেখার এই মডেলেই তামিলনাড়ু শিক্ষা, শিল্প ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে তারা মনে করে।

তিন মাস পরেই তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ভাষা ও তামিল পরিচয় আবারও রাজ্যের রাজনীতিতে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। মজার বিষয় হলো, বিজেপির এককালীন সহযোগী দল এআইএডিএমকেও (AIADMK) ত্রি-ভাষা নীতির বিরোধী। অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বাড়তি একটি ভারতীয় ভাষা শিখলে শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়বে, এটি কোনো জোরপূর্বক ভাষা চাপানো নয়।