আকাশজয়ী বাঙালি কন্যা, ভারতের প্রথম মহিলা প্যারাট্রুপার গীতা চন্দ্রকে চেনে কি আজকের প্রজন্ম?
মাঝ আকাশে বিমানের দরজা খুলে যায়। দেখা যায় প্যারাট্রুপারের নির্দিষ্ট পোশাক পরে বিমান থেকে লাফ ৪ প্যারাট্রুপার। প্রথম ৩ জন প্রশিক্ষক আর তাঁদের পেছনে দাঁড়িয়ে শিক্ষানবিশ গীতা চন্দ্র।
Truth Of Bengal: কথায় বলে যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। নারী শুধু রাঁধেই না বা চুলই বাঁধে না। বিমান থেকে লাফিয়ে পড়ে সফল ভাবে প্যারাট্রুপিং করে সাহসিকতার পরিচয়ও দেয়। আজকের প্রতিবেদনে তুলে ধরব এক সাহসিনী বঙ্গললনার কথা। তিনি গীতা চন্দ্র। ভারতের প্রথম মহিলা প্যারাট্রুপার। এই বাঙালিনীর সাহসিকতার পরিচয়, বীরগাথা লেখা রয়েছে স্বর্ণাক্ষরে।
সালটা ছিল ১৯৫৯। ১৭ জুলাই। উত্তর ভারতের আকাশে উড়েছিল এক ডাকোটা বিমান। মাঝ আকাশে বিমানের দরজা খুলে যায়। দেখা যায় প্যারাট্রুপারের নির্দিষ্ট পোশাক পরে বিমান থেকে লাফ ৪ প্যারাট্রুপার। প্রথম ৩ জন প্রশিক্ষক আর তাঁদের পেছনে দাঁড়িয়ে শিক্ষানবিশ গীতা চন্দ্র।
ঐতিহাসিক মুহূর্তর সাক্ষী থাকতে চারিদিকে ছিল লোকে লোকারণ্য। নির্ধারিত সময় প্রথমে ৩ জন প্রশিক্ষক বিমান থেকে লাফ দেন। এরপরই সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন বিমানের দরজার দিকে। বিমানের দরজার সামনে এগিয়ে আসেন প্রশিক্ষণরত প্যারাট্রুপার গীতা চন্দ্র। তিনি ধীরে সুস্থে ঠান্ডা মাথায় অপেক্ষা করতে থাকেন পরবর্তী নির্দেশের। নির্দেশ পাওয়া মাত্র বিমান থেকে লাফ দেন গীতা চন্দ্র। এভাবেই বাংলা তথা ভারতের নাম উঠে যায় ইতিহাসে। প্রথম ভারতীয় মহিলা প্যারাট্রুপার হিসাবে ইতিহাসে জায়গা পাকা করে নেন গীতা চন্দ্র।
বিমান থেকে লাফিয়ে পড়ার সময় সাহসিনী গীতা পেছনে দড়ির টান অনুভব করেন। তিনি দেখেন প্যারাশ্যুটটি রঙিন ছাতার মতো খুলে গেছে। ২০ সেকেন্ডের মধ্যে গীতা মাটি দেখতে পান। ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে নিরাপদে অবতরণ করেন। প্রবল উৎসাহে জয়োল্লাসে ফেটে পড়ে জনতা। ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন খোদ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভি কে কৃষ্ণ মেনন।
মেধাবী গীতার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে রংপুরে। বাবা হরেন্দ্র চন্দ্র ছিলেন কারমাইকেল কলেজের অধ্যাপক। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলোতেও গীতা ছিলেন চৌকস। ডাক্তারি কোর্স পাশ করে ১৯৫৭ সালের নভেম্বরে ভারতীয় বায়ুসেনায় মেডিক্যাল অফিসার হিসাবে যোগ দেন। পশ্চিমবঙ্গে হয় প্রথম পোস্টিং।
১৯৫৯ সালে ভারতীয় বায়ুসেনা সার্কুলার জারি করে বায়ুসেনায় কর্মরত ডাক্তারদের প্যারাট্রুপিংয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা বলে। পুরুষ ডাক্তাররা স্বেচ্ছায় এই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তাঁরা বিবৃতিতে সই করে আপত্তির কথা জানান। কিন্তু অকুতোভয় গীতা চন্দ্র সানন্দে প্রস্তাব লুফে নেন। পিছিয়ে আসেননি তিনি। সকলে অবাক হন গীতার সিদ্ধান্তে। কারণ প্রত্যেকের ধারণা ছিল প্যারাট্রুপিংয়ের মতো বিপজ্জনক কাজ একমাত্র সেনারাই করতে পারেন। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম ভারতীয় কমান্ডার ইন চিফ এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে গীতা চন্দ্রর প্রশিক্ষণ নেন। প্যারাট্রুপার স্কুলে যোগ দেন গীতা। প্রবল গরমে উত্তর ভারতে কঠোর প্রশিক্ষণ চলে। শেষে ১৯৫৯ সালের জুলাইয়ে ইতিহাস গড়েন গীতা। এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখোপাধ্যায় নিজে তাঁকে প্যারা ট্রুপারের ব্যাজ পরিয়ে সম্মানিত করেন।






