৩টি বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিলের পথে ঝাড়খণ্ড সরকার! পড়ুয়াদের আন্দোলনের তোপে ব্যাকফুটে মুখ্যমন্ত্রী সোরেন
টানা অনশন ও 'বিধানসভা অভিযান'-এর হুঁশিয়ারি! অবশেষে ছাত্রদের দাবির মুখে নতিস্বীকার হেমন্ত সরকারের?
Truth of Bengal: চাকরির পরীক্ষায় মারাত্মক অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড। প্রতিবাদে শামিল হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগের দাবি তুলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অবশেষে ছাত্রসমাজের এই অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের কাছে নতিস্বীকার করতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। রবিবার ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রের খবর, আন্দোলনকারীদের অন্যতম মূল দাবি মেনে তিনটি বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে হেমন্ত সোরেন সরকার। একই সঙ্গে পরীক্ষার সঙ্গে কোনও আর্থিক দুর্নীতি যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইডি (ED) বা সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবিও মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভূরি ভূরি অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ফুঁসে উঠেছেন পরীক্ষার্থীরা। রাঁচির ঐতিহাসিক জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে অবস্থান বিক্ষোভের পাশাপাশি আমরণ অনশনে বসেছেন বিশিষ্ট ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো। তাঁদের মূল দাবি তিনটি, ১. সিবিআই ও ইডি-কে দিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত করানো, ২. নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত সমস্ত বিতর্কিত পরীক্ষা স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করা, এবং ৩. অসাধু চক্র ভেঙে যোগ্য প্রার্থীদের যথাযথ ন্যায়বিচার প্রদান করা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই ছাত্র নেতৃত্বের সঙ্গে অন্তত ৫ দফা আলোচনায় বসেছে সরকার, কিন্তু এতদিন কোনও রফাসূত্র মেলেনি। শনিবার ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো জানান, টানা ১৫ দিন অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে কমে গিয়েছে। এর পরেই ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা হুঁশিয়ারি দেন যে, মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে ইস্তফা না দিলে সংসদ ভবন অভিযানের আদলে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাও করা হবে।
এমন চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপে পড়ে বাধ্য হয়েই ২০২৩ এবং ২০২৫ সালের ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ১৪তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। পাশাপাশি, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষাগুলিও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে পরীক্ষা পদ্ধতিতে বৈপ্লবিক সংস্কার আনতে আইআইএম (IIM) এবং এক্সআইএসএস (XISS)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণা হওয়া এখনও বাকি।






