দেশ

সাইবার প্রতারণার চাপে ভোপালে সিনিয়র অ্যাডভোকেটের আত্মহত্যা

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ ধরনের সাইবার ব্ল্যাকমেল—যেখানে প্রতারকেরা আইনগত বিপদের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে চরম চাপে ফেলে।

Truth Of Bengal: মধ্যপ্রদেশের ভোপালের জাহাঙ্গিরাবাদে ভয়াবহ সাইবার প্রতারণার চাপে আত্মহত্যা করলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শিবকুমার বর্মা। তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া চিরকুটে নিজের মৃত্যুর দায় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে গেছেন তিনি। সুইসাইট নোটে শিবকুমার লিখেছেন, আমাকে বলা হয়েছে একটি ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তাঁর নাম-পরিচয় ব্যবহার করে খোলা হয়েছে এবং সেই অ্যাকাউন্টকে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার অর্থসাহায্য-এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি লিখেছেন, এই অপমান আমি সহ্য করতে পারছি না। আমাকে বিশ্বাসঘাতক বলা হলে আমি বাঁচতে পারব না।  আমি স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করছি।ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে দিল্লিতে ছিলেন, ছেলে পুনেতে কর্মসূত্রে। স্ত্রী ফোনে যোগাযোগ না পেয়ে এক ভাড়াটিয়াকে খোঁজ নিতে বললে, জানালা দিয়ে তাকিয়েই তিনি বর্মার নিথর দেহ দেখতে পান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। সুইসাইট নোটে শিবকুমার নিজের জীবনের সামাজিক কাজের কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি জানান ১৯৮৪-র ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ের সময় শতাধিক মৃতদেহ সৎকার করা, মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সে মানুষের সেবায় যুক্ত থাকা এবং প্রায় ৫০ বার রক্তদান করে বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ ধরনের সাইবার ব্ল্যাকমেল—যেখানে প্রতারকেরা আইনগত বিপদের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে চরম চাপে ফেলে। ভোপাল পুলিশ কমিশনার হরিনারায়ণচরী মিশ্র জানান, চিরকুটে উল্লেখ থাকা নম্বর ও অ্যাকাউন্টের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দোষীদের খুঁজে বের করতে একাধিক টিম তদন্তে নেমেছে। তাঁর কথায়, “দোষীদের চিহ্নিত করা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সাইবার অপরাধের বিস্তারের ভয়াবহতা সামনে এনে দিল। প্রযুক্তির অপব্যবহারে কীভাবে কারও সামাজিক সম্মান, মানসিক শান্তি এবং শেষ পর্যন্ত জীবন পর্যন্ত বিপন্ন হতে পারে—শিবকুমার বর্মার মৃত্যু তার প্রমাণ।

 

Related Articles