দেশ

নয়ডার জেলাশাসক জ্ঞানেশ কন্যাকে তীব্র ভর্ৎসনা! বঙ্গতনয়া আকৃতিকে ৫ লক্ষ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ হাইকোর্টের

জর্জ অরওয়েলের '১৯৮৪' উপন্যাসের প্রসঙ্গ টেনে তীব্র তোপ! নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে ছাত্রী গ্রেফতার কাণ্ডে তোলপাড় বিচারব্যবস্থা!

Truth of Bengal: নয়ডায় শান্তিপূর্ণ শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অপরাধে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী বঙ্গতনয়া ছাত্রী আকৃতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA) প্রয়োগ করার ঘটনায় যোগী প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর (নয়ডা) জেলার জেলাশাসক মেধা রূপম, যিনি আবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা, তাঁর জারি করা এনএসএ নির্দেশ বাতিল করার পাশাপাশি তাঁর ভূমিকা নিয়েই কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে আদালত। সেই সঙ্গে স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কারণে জেলাশাসক মেধা রূপমকে নিজের ব্যক্তিগত বেতন থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অতুল শ্রীধরন এবং বিচারপতি অচল সচদেবের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের শুরুতে। নয়ডায় একটি শান্তিপূর্ণ শ্রমিক আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের বঙ্গতনয়া আকৃতি চৌধুরী। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর ওপর কড়া এনএসএ চাপিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন জেলাশাসক মেধা রূপম। এর জেরে টানা পাঁচ মাস ধরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে অমানুষিক দিন কাটাতে হয় ওই ছাত্রীকে। অবশেষে গত ২ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট আকৃতির ওপর চাপানো এনএসএ সম্পূর্ণ বেআইনি আখ্যা দিয়ে তা বাতিল ঘোষণা করে।

এই মামলার পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা ও প্রশাসনিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মারাত্মক হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দুই বিচারপতির বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, কোনও রকম যুক্তি বা আইনি গ্রহণযোগ্যতা ছাড়া এভাবে নাগরিকদের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করা সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার চরম লঙ্ঘন। আদালত মন্তব্য করে, “প্রশাসনের এই ধরনের দমন-পীড়নমূলক ও স্বৈরাচারী আচরণ অব্যাহত থাকলে উত্তরপ্রদেশ ধীরে ধীরে ব্রিটিশ আমলের পরাধীনতার দিনগুলিতে ফিরে যাবে, যেখানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ‘১৯৮৪’-এর প্রসঙ্গ টেনে উচ্চ আদালত কঠোর ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমলারা যদি নিজেদের মানসিকতায় অবিলম্বে বদল না আনেন, তবে অচিরেই গোটা রাজ্যটি একটি চরম ‘জীবনগ্রাসী ও বাক স্বাধীনতা বিরোধী রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে। একজন সাধারণ বঙ্গতনয়া ছাত্রীর প্রতি প্রশাসনিক অন্যায়ের বিচার ও ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশকে সিভিল সোসাইটি ও আইনজ্ঞ মহল এক ঐতিহাসিক রায় হিসেবেই দেখছে।

Related Articles