কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই অ্যাকশনে পুলিশ! বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়ে গ্রেফতার কংগ্রেস নেতা

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই গভীর রাতে অ্যাকশন! টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার কংগ্রেস নেতা অতনু দাস

Truth of Bengal: মধ্যপ্রদেশের বিতর্কিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর শাস্তি হিসেবে গভীর রাতে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার হলেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাস। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে টালিগঞ্জের নিজ বাসভবন থেকে ভবানীপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। খোদ বিধানসভার অধিবেশন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নজিরবিহীন তৎপরতায় এই আইনি পদক্ষেপ নিল পুলিশ। এহেন গ্রেফতারির ঘটনা ঘিরে চরম ক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফুঁসে উঠেছে রাজ্য কংগ্রেস।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলায় আয়োজিত একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দুর্গাপুজোয় আমিষ ভোগ খাওয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বাগেশ্বর বাবা। তিনি সাফ দাবি করেন, পুজোয় যারা আমিষ গ্রহণ করেন তাঁরা আদতে ‘পাখণ্ডী’ অর্থাৎ পাপী বা ভণ্ড। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বাঙালি সংস্কৃতি ও খাদ্যরীতির অপমানের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে সরব হয় বিভিন্ন মহল। এমনকি বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও ওই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের দায় এড়িয়ে যান। এরই মধ্যে ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায় জেলা কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা।

কংগ্রেসের এই বিক্ষোভ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ভবানীপুর থানার সামনে কিছু লোককে ছবি পোড়াতে দেখা গিয়েছে। আমি সরাসরি পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিচ্ছি, এই অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। বাংলায় শান্তি ও সৌহার্দ্য বিনষ্টের কোনও চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই স্পষ্ট বার্তার পরপরই রাতে অভিযানে নামে ভবানীপুর থানার পুলিশ এবং টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে অতনু দাসকে জালে তোলে।

এই নজিরবিহীন গ্রেফতারিতে রাজ্য সরকারের ওপর তোপ দেগেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। ক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, “বাগেশ্বর বাবা প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে সমগ্র বাঙালি জাতিকে ‘পাখণ্ডী’ বলে অপমান করল, আর আমরা স্বভিমানের প্রতিবাদ করায় আমাদের শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করা হল! অথচ দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হলেও কোনোদিন তো কাউকে পুলিশ ছুঁয়েও দেখেনি।” বাঙালিদের খাদ্য সংস্কৃতিকে অপমান করলে রাজপথে নামিয়া ভবিষ্যতেও এই লড়াই জারি রাখার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে হাত শিবির।

Related Articles