অজয় রাই নয়, উত্তরপ্রদেশে যোগীর বিপক্ষে মুসলিম মুখের ভাবনা কংগ্রেসের
একসময় উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণ ও মুসলিম ভোটের সমীকরণে সাফল্য পেয়েছিল কংগ্রেস।
Truth of Bengal: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কংগ্রেস। দেশের সবচেয়ে বেশি লোকসভা আসনের রাজ্যে বিজেপিকে চাপে ফেলতে এখন থেকেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা শুরু করেছে রাহুল গান্ধীর দল। সূত্রের খবর, এবার কংগ্রেসের বিশেষ নজর দলিত ও মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে।
একসময় উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণ ও মুসলিম ভোটের সমীকরণে সাফল্য পেয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু গত তিন দশকে ব্রাহ্মণ ও ঠাকুর ভোটের বড় অংশ বিজেপির দিকে চলে গিয়েছে। সেই ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ভাঙন ধরানো কঠিন বুঝে এবার ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে সাফল্য পাওয়া বৃহত্তর সামাজিক সমীকরণকেই সামনে রাখতে চাইছে হাত শিবির।
বিএসপির সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগে মায়াবতীর ঐতিহ্যগত দলিত ভোটের একাংশ নিজেদের দিকে টানতে চাইছে কংগ্রেস। উত্তরপ্রদেশের পর্যবেক্ষক করা হয়েছে দলিত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতমকে। তাঁর নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই দলিত সমাজকে ঘিরে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মুসলিম ভোটারদের কাছেও নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চাইছে দল।
এই পরিস্থিতিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাইকে নিয়েও দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর। অজয় রাইয়ের রাজনীতিতে হিন্দুত্বের ছাপ স্পষ্ট। ফলে তাঁর পরিবর্তে কোনও মুসলিম নেতাকে প্রদেশ সভাপতি করার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে বলে সূত্রের দাবি। সম্ভাব্য নাম হিসাবে উঠে আসছে সাংসদ ইমরান মাসুদ, ইমরান প্রতাপগড়ি এবং মহম্মদ জাভেদের নাম।
তবে এই সিদ্ধান্তের ঝুঁকিও বিবেচনা করছে কংগ্রেস। মুসলিম নেতাকে প্রদেশ সভাপতি করলে বিজেপি ফের কংগ্রেসকে ‘মুসলিমদের দল’ বলে আক্রমণ করতে পারে। একই সঙ্গে মুসলিম ভোট নিয়ে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হলে অখিলেশ যাদবের সঙ্গেও সমীকরণে প্রভাব পড়তে পারে। তাই ২০২৭-এর আগে দলিত-মুসলিম সমীকরণকে সামনে রেখে কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






