এবার পকসো আইনের কোপে অভিজিৎ-সৌরভ? চরম বিপদে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব!
‘ককরোচ’ নেতাদের বিরুদ্ধে পকসো আইনের ফাঁদ? ১২ বছরের শিশুদের আন্দোলনে আনার অভিযোগে তোলপাড়!
Truth of Bengal: ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এবার আইনি জাঁতাকলে পড়তে চলেছেন সংগঠনের শীর্ষ মুখ অভিজিৎ দীপকে এবং সৌরভ দাস। ককরোচদের সাম্প্রতিক সংসদ ভবন অভিযান ও আন্দোলন কর্মসূচিতে বহু ছোট বালক-বালিকাদের দেখা গিয়েছিল। সেই মিছিলে উপস্থিত ১২ বছরের শিশুদের ওপর পুলিশ নির্মম লাঠিচার্জ করেছে, এমন দাবি তুলে সরব হয়েছিলেন অভিজিৎ ও সৌরভ। তবে এই বিষয়টিকেই পাল্টা হাতিয়ার করে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় নামে এক আইনজীবী।
১২ বছরের শিশুকে কে আনল প্রতিবাদে?
সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের আন্দোলনে ব্যবহার করার অভিযোগে অভিজিৎ ও সৌরভদের বিরুদ্ধে শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায়।
তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, “নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইনস্টাগ্রামে ভিডিও করেছেন এবং বিতর্কিত মন্তব্যকারীদের ক্ষমাও করেছেন। এরপরই অভিজিৎ ও সৌরভ ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন ১২ বছরের বাচ্চা মেয়েদের ওপর পুলিশ লাঠি চালিয়েছে এবং তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হল, ১২ বছর বয়সি ওই ছোট শিশুদের প্রতিবাদস্থলে টেনে আনল কারা?”
পকসো আইনে এফআইআর-এর দাবি
আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, ১২ বছর বয়সি শিশুদের নিরাপদ স্থানে রাখা পরিবারের ও সমাজব্যবস্থার দায়িত্ব। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং শিশু সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিবাদে শিশুদের জড়িয়ে চরম ঝুঁকিতে ফেলার দায়ে আয়োজকদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করা উচিত। এই মর্মে তিনি সাইবার ক্রাইম থানায় চিঠি দিয়ে ককরোচ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আবেদন জানিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টে আন্দোলনকারীদের লাঠিচার্জ মামলা
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ ভবন অভিযানে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। আন্দোলনকারী নারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন আইনজীবীরা। পুলিশি ব্যাজ ছাড়া লাঠিচার্জ ও গোপনাঙ্গে আঘাত করার সমর্থনে অন্তত ১১০টি ভিডিও প্রমাণ হিসেবে পেশ করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশনও দায়ের হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধানসম্মত এবং আন্দোলন হলেই সেখানে সরাসরি লাঠিচার্জ করা যায় না। তবে তার মাঝেই পকসো আইনের আবেদনের এই নতুন মোড় আন্দোলনকারীদের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।






