কলকাতা

জনতার দরবারে অভিযোগ জমা পড়তেই অ্যাকশন! কোটি কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগে শ্রীঘরে দমদমের বরুণ নট্ট

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তায় নড়েচড়ে বসল প্রশাসন! দমদমের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান বঙ্কু-সহ তিন হেভিওয়েট গ্রেফতার!

Truth of Bengal: প্রোমোটারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার তোলা আদায় ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে জনতার দরবারে নালিশ পৌঁছাতেই শুরু হল প্রশাসনিক ঝটিকা অভিযান। অভিযোগ জানানোর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খোদ দমদম পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান বরুণ নট্ট ওরফে বঙ্কু-সহ তিন প্রভাবশালীকে গ্রেফতার করল দমদম থানার পুলিশ। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের ওপর বেআইনি চাপ ও বলপূর্বক তোলাবাজি চালানোর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘিরে বর্তমানে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে সমগ্র দমদম এলাকায়।

ঘটনার সূত্রের খবর, দমদম পুরসভা এলাকার এক নামী প্রোমোটার বহুতল নির্মাণের কাজ শুরু করলে, তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় কোটি কোটি টাকা দাবি করতে শুরু করেন পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান বরুণ নট্ট ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীরা। দিনের পর দিন তোলা আদায়ের পরিমাণ মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে এবং সিন্ডিকেটের হুমকিতে কাজ বন্ধের মুখোমুখি হলে, বাধ্য হয়ে বিচার চেয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি ‘জনতার দরবারে’ পৌঁছান ভুক্তভোগী ওই প্রোমোটার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তোলাবাজির সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও বিস্তারিত অভিযোগ পেশ করা মাত্রই তিনি কলকাতা পুলিশ প্রশাসনকে কড়া হাতে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই কালবিলম্ব না করে তদন্তে নামে দমদম থানার পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান বরুণ নট্ট ওরফে বঙ্কুকে। তাঁর পাশাপাশি এই তোলাবাজি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দমদম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পর্ণা দাসের ছেলে নয়নাশিস দাস ওরফে জনি এবং ওয়ার্ডের সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে পরিচিত সুমন্ত ঘোষ ওরফে লালটুকে।

তবে এই মেগা তোলাবাজির শিকড় এখানেই শেষ নয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোটি কোটি টাকার লেনদেনের এই বেআইনি চক্রের তদন্তে দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান হরেন্দর সিং-সহ পুরসভার একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন আধিকারিক এবং স্থানীয় সিন্ডিকেট নেতাদের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগে নাম থাকা বাকি প্রভাবশালীরা আপাতত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে রয়েছেন। এই সুবিশাল তোলাবাজি চক্রের মূল চালিকাশক্তি কে এবং এর পেছনে কোনও বড় রাজনৈতিক মাথার মদত ছিল কি না, তা খুঁজে বার করতে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করেছে পুলিশ।

Related Articles